মুম্বই : মহারাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি সবথেকে খারাপ। সেখানে শুরু হয়েছে লকডাউন। না চাইলেও ধাক্কা সামলাতে পুরোনো প্রেসক্রিপশনেই ফিরে যেতে হয়েছে সরকারকে। নয়া তথ্য চমকে দিয়েছে বিশেষজ্ঞদের। গত বছর কলকাতার মতো এবার মুম্বইতেও বস্তি অঞ্চলের যে প্রচুর গুণ বেশি করোনা আক্রান্তের হচ্ছে হাইরাইজ বিল্ডিং, কলোনি, কমপ্লেক্সে থাকা মানুষ।

যে পরিমাণ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তার ৯০ শতাংশই হাইরাইজ বিল্ডিংয়ে থাকা মানুষজন। অর্থাৎ মাত্র ১০ শতাংশ আক্রান্ত বস্তিতে। বৃহণমুম্বই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী দিনে ৮৭ হাজার ৪৪৩ করোনা আক্রান্তের মধ্যে ৭৯হাজার ৩২ জনই সুউচ্চ নির্মাণে থাকা মুম্বইবাসী। ৮ হাজার ৪১১ জন আক্রান্ত বস্তি অঞ্চল থেকে। ১৬ এপ্রিলের তথ্য এমনটাই বলছে।

২০২০-এর ছবিটা সম্পূর্ণ অন্যরকম ছিল। সেখানে জুলাই মাসে দেখা গিয়েছিল ৫৭ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছিলেন বস্তি অঞ্চলে। ১৬ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছিলেন হাইরাইজ বিল্ডিং থেকে। অন্য একটি সার্ভেতে দেখা গিয়েছিল ৪৫ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছিলেন বস্তি অঞ্চলে। ১৮ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছিলেন হাইরাইজ বিল্ডিং থেকে। মোটের উপর বস্তি অঞ্চলেই ছিল বেশি করোনা আক্রান্ত।

২০২০ সালের জুন মাসের তথ্য সেই কথাই বলছিল। মুম্বইয়ের দুই তৃতীয়াংশ কোভিড পজেটিভ রিপোর্ট মিলছিল বস্তি থেকে। অর্থাৎ অতি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণ বেশি হচ্ছিল। সেখানকার ৪২ লক্ষ মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। হাউরাইজের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটা ছিল ৮ লক্ষ। বছর ঘুরতে উলটে গিয়েছে চিত্র।

শুধু মুম্বইয়ে রবিবার সংক্রমিত হন ৮ হাজার ৪৬৮ জন। ওইদিন শুধু মুম্বইয়ে করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয় ৫৩ জনের। এই নিয়ে মুম্বইয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১২ হাজার ৩৫৪-এ।

দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আবহে মহারাষ্ট্রেই সংক্রমণের সংখ্যা সব চেয়ে বেশি। মুম্বই-সহ গোটা রাজ্যে বাড়তে থাকা এই রোগীর সংখ্যা সামাল দিতে রীতিমতো সমস্যায় পড়েছে প্রশাসন। মহারাষ্ট্রে প্রতি ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন ২ হাজার ৮৫৯ জন। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ৪৮ জন মহারাষ্ট্রবাসী করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন।

সোমবার জানা গিয়েছিল মহারাষ্ট্রে রবিবার ৬৮ হাজার ৬৩১ মানুষ নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সবমিলিয়ে মহারাষ্ট্রের এখন মোট করোনা আক্রান্ত ৩৮ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৩৮-জন। ওই২৪ ঘন্টায় দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাতেও শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্রই। মৃত্যু হয় ৫০৩ জনের। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, প্রতি ৩ মিনিটেরও কম সময়ে একজনের মৃত্যু হচ্ছে ওই রাজ্যে। সোমবার রাজ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ৬০ হাজার ৪৭৩ জনের। একটিভ রোগী ৬ লক্ষ ৭২ হাজার ৩৭ জন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.