কাঠমাণ্ডু: ভারত-নেপাল সম্পর্কে শুধু মানচিত্র কাঁটা তিক্ততা বাড়িয়েছে তা নয় করোনা সংক্রমণ নিয়েও ভারতকে দুষছে নেপাল। কাঠমান্ডুর তরফে দাবি জানানো হয়েছে ৯০ শতাংশ করোনা সংক্রমণ দেশের বাইরে থেকে হয়েছে। কারণ বেশিরভাগ পরিযায়ী শ্রমিকরা ভারত থেকে এসেছেন।

নেপালে নতুন করে ৪২১ জন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন যা ১০ হাজার সংখ্যার দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। এও জানা গিয়েছে, নেপালের ৭৭ জেলার মধ্যে ৭৫টিতে এখনও অবধি এই ভাইরাস ছড়িয়ে গিয়েছে।

ভারত সবসময় কথোপকথনে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে তবে তা সবসময় কারণসাপেক্ষ। যদি নেপাল একতরফাভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তবে কথার মাধ্যমে মীমাংসায় তা ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা বাড়াবে।

মে মাসের ৮ তারিখ কৈলাস মানস সরোবর সংযোগকারি একটি রাস্তা উদ্বোধনের পর থেকেই ভারত-নেপালের সম্পর্কে চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এ বিষয়ে নেপাল বিরোধিতা করে ভারতকে একটি কূটনৈতিক বার্তাও পাঠিয়েছে।

মে মাসের ২০ তারিখ নেপালের নতুন মানচিত্রকে কেন্দ্র করেই ভারত এবং নেপালের কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করেছে। নেপালের বিতর্কিত এই মানচিত্রে ভারতের অংশ কালাপানি, লিপুলেখ এবং লিমপিয়াধুরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, নতুন এই মানচিত্র “ঐতিহাসিক সত্যতা এবং প্রমাণ” ভিত্তিক নয়।

নয়াদিল্লির তরফে কাঠমাণ্ডুকে “মানচিত্র নিয়ে এই অন্যায্য দাবি” জানানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে এবং ভারতের সার্বোভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতেও বলা হয়েছে।

একাধিকবার ভারত জানিয়েছে, নেপালের সঙ্গে গভীর এবং বহুদূরপ্রসারিত ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং বন্ধুত্বের সম্পর্ক আছে। পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে, বিশ্বাস এবং প্রত্যয়পূর্ণ পরিবেশে পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সকল প্রতিবেশি দেশকেও জড়াতে প্রস্তুত ভারত। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং এ বিষয়ে গঠনমূলক এবং ইতিবাচক প্রচেষ্টা কাম্য।

ভারতের বিদেশমন্ত্রক আশাবাদী যে নেপালের শীর্ষনেতৃত্ব সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ের কথোপকথনে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, ভারত এবং নেপাল ১৮০০ কিলোমিটার অথবা ১,১১৮ মাইল খোলা সীমানা ভাগ করে আসছে। রিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। নেপালের সঙ্গে কোনও রকম বিবাদে জড়াতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। কাঠমান্ডুও বাড়িয়ে দিয়েছে সুসম্পর্কের হাত। যদিও সীমান্ত নিয়ে টানাপোড়েনের এখনও অবসান হয়নি।

ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নেপালের পশুপতিনাথ মন্দির ও লাগোয়া এলাকায় নিকাশি পরিকাঠামো উন্নয়নে সাহায্য করবে ভারত। এই বিষয়ে একটি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে নয়াদিল্লি ও কাঠমান্ডুর মধ্যে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ