স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: পড়াশুনোর ফাঁকে নিজের হাত খরচ চালাতে অনেকেই বিভিন্ন কাজ করে থাকে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে কাজটা একটু অন্যরকম, এবং যে কাজটা করছে সেটা কোনও হাত খরচ যোগানোর করতে কাজ করছেনা। বরং নিজের শৈল্পিক সত্ত্বার বিকাশ ঘটাতে তাঁর এই নতুন কাজ। তাঁর এই ছোট্ট প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে বাহবা কুড়িয়েছে অনেকেরই। তাহলে আসা যাক আসল ঘটনায়।

জলপাইগুড়ি জেলার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পান্ডা পাড়ার বাসিন্দা জ্যোতির্ময় দাস গত দু’মাস ধরে দুটি দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছে। সূত্রের খবর, সে যে দুটি প্রতিমা তৈরি করছে তাদের উচ্চতা দেড়ফুট। এই উচ্চতার মধ্যেই পুরো মূর্তি। আর তাঁর এই কাজ ইতিমধ্যে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এলাকার বাসিন্দাদের।

সূত্রের খবর, গত একমাস ধরে দুটি ছোট দুর্গা প্রতিমা গড়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে খুদে জ্যোতির্ময়। বর্তমানে তাঁর এই কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখন শুধু প্রতিমা দুটির গায়ে রঙ দেওয়ার পালা। যদিও তাঁর এই শিল্পনৈপুণ্যের আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ছোট্ট জ্যোতির্ময় জানিয়েছে, মাত্র ন’বছর বয়স থেকেই তাঁর এই প্রতিমা তৈরির নেশা।

জলপাইগুড়ি শহরের দেশবন্ধুনগর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র জ্যোতির্ময়। মাত্র ন’বছর বয়স থেকেই তার প্রতিমা তৈরির নেশা। গত বছর তার তৈরি দুর্গা প্রতিমা ময়নাগুড়ির একটি ক্লাব নিয়ে গিয়েছিল। এবারও দুটি ভিন্ন রকমের দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছে সে। মাটির কাজ প্রায় শেষ বলে জানিয়েছে সে।

জ্যোতির্ময়ের ছোট দুর্গা তৈরির শিল্প প্রতিভায় ইতিমধ্যেই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকার মানুষ। খুদে এই শিল্পী জানায়, মা, বাবার দেওয়া স্কুলের টিফিনের পয়সা জমিয়ে এই প্রতিমা দুটি তৈরি করছে সে।

জ্যোতির্ময় জানিয়েছে দেড় ফুটের এই দুর্গা প্রতিমা দুটি তৈরি করতে তার খরচ হচ্ছে মাত্র ৩০০ টাকার মত। নিজের হাতে এর আগেও বিভিন্ন প্রতিমা তৈরি করেছে সে। তবে একসঙ্গে দুটো দুর্গা প্রতিমা এই প্রথম।

খুদে এই শিল্পী জানিয়েছে, নিজের জমানো টাকা দিয়ে প্রতিমা তৈরির জন্য মাটি, বাঁশ, কাঠ, খড় ও রঙ কিনে এনেছে সে। এছাড়া রয়েছে প্রতিমার কাপড় ও বিভিন্ন রকমের অস্ত্রশস্ত্র। রয়েছে অন্যান্য সাজার জিনিসও। ইতিমধ্যেই সমস্ত জিনিস কেনা হয়ে গিয়েছে এখন শুধু বাকি প্রতিমা রঙ করার কাজ।

জ্যোতির্ময় জানায় শখের বশেই এই প্রতিমা গড়ার কাজ করে সে। পড়াশোনার ফাঁকে যখনই সময় পায় একটু একটু করে গড়ে তোলে তার শিল্পকর্ম। ইতিমধ্যেই তার এই কাজ দেখতে ভিড় করছে এলাকার কচিকাঁচার দল। আসছেন বড়রাও। এতে আরও বেশি উৎসাহ বাড়ছে খুদে এই শিল্পীর।