প্রতীকী ছবি

দেরাদুন : ফের দলিত নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনা ঘটল উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে৷ ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তেহরি জেলার নইনবাগ এলাকায়৷ স্থানীয় সূত্রে খবর দলিত ওই নাবালিকাকে উচ্চবর্ণের যুবক ধর্ষণ করে৷ তাই যখন অভিযোগ নিয়ে ওই পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হতে যায়, তখন তাদের আটকানো হয় বলে অভিযোগ৷

টাইমস অফ ইণ্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত যুবকের নাম নিতিন সিং পাওয়ার৷ সে রাজপুত সম্প্রদায়ের বলে খবর৷ নিজের দোকানে মিষ্টি দেওয়ার নাম করে নাবালিকাকে ভুলিয়ে নিয়ে যায়, সেখানেই তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ৷

বাড়ি ফিরে শিশুটি কাঁদতে শুরু করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে৷ নিজের বাবা মাকে গোটা ঘটনা খুলে বলে মেয়েটি৷ সঙ্গে সঙ্গে তারা পুলিশের কাছে যান৷ কেস দায়ের হয় ওই যুবকের বিরুদ্ধে৷ পরে মেয়েটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য দুন হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে নরেন্দ্র নগর থানার পুলিশ আধিকারিক উত্তম সিং জানান৷

আরও পড়ুন : ‘জিন্দেগি হরকদম এক নয়ি জঙ্গ হ্যায়’, ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা সুদীপ রায়বর্মণের

শুক্রবার প্রোটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্স বা পকসো আইনের ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়৷ নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ যুবকের বাড়ির পক্ষ থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে৷ এমনকী এই ঘটনায় অভিযুক্তের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরাও৷

নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ ওই যুবক উচ্চবর্ণের বলেই সহজে মামলা থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারে সে৷ শিশু কন্যার মা জানান, মেয়েকে নিয়ে প্রথমে পঞ্চায়েতের কাছে গিয়েছিলেন তিনি৷ সেখানে বিচারের নামে ৭ ঘন্টা বসিয়ে রাখা হয়৷ শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু দিতে পারেননি তিনি৷ পরে পুলিশের কাছে না যেতে হুমকি দেওয়া হয় তাঁদের৷

আরও পড়ুন : মোবাইলে কথা বলা নিয়ে বচসা, স্ত্রীকে পুড়িয়ে খুন

তবে কোনও বাধা না মেনে পুলিশের কাছে গিয়ে মেয়ের সঠিক বিচারের ব্যবস্থা করেন তাঁরা৷ উল্লেখ্য দিন কয়েক আগে, এমনই ঘটনা ঘটে যোগী রাজ্যে৷ বাড়ির লোকের না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে এক দলিত নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও পরে পুড়িয়ে মারা হয়৷ জঘন্য ঘটনাটি ঘটে উত্তরপ্রদেশের মুজফফরপুরের৷ সাতজনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়৷

পুলিশের কাছে অভিযোগে মেয়েটির বাবা জানান, অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন৷ ঘরে ছেলেমেয়েদের একা রেখে যান৷ মেয়ে ঘরের ভেতরে ঘুমাচ্ছিল৷ ছেলে বাইরে ছিল৷ ফিরে এসে ঘরের মধ্যে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মেয়েকে দেখতে পান৷ তিনি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ আনেন৷ জানান, পুলিশ প্রথমে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করছিল৷ কিন্তু তিনি নিশ্চিত ছিলেন, মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে৷ তাঁর সন্দেহ, এলাকায় কাজ করা অস্থায়ী শ্রমিকরা এই জঘন্য ঘটনার সঙ্গে যুক্ত৷