কলকাতা: রাতের কলকাতায় বিধ্বংসী অগ্নিকান্ড কেড়ে নিল তরতাজা একাধিক প্রাণ। স্ট্র্যান্ড রোডে পূর্ব রেলের দফতর নিউ কয়লাঘাট বিল্ডিং’য়ে সোমবার যে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে তাতে এখনও অবধি ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। দুর্ঘটনার সময় লিফটের মধ্যে ঝলসেই প্রত্যেকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মৃতদের মধ্যে রেলের এক ডেপুটি চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার এবং তাঁর রক্ষী বাদে একজন আরপিএফ, একজন কলকাতা পুলিশের এএসআই এবং বাকি ৪ জন দমকল কর্মী রয়েছেন। অর্থাৎ প্রাণ বাঁচাতে এসে বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডের বলি হতে হল ৬ জনকে। একজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

কয়লাঘাট বিল্ডিং’য়ের দু’টি লিফটের মধ্যে থেকে ঝলসানো অবস্থায় উদ্ধার করা মৃতদেহগুলি। অগ্নিকান্ডের সময় লিফটের মধ্যে দমবদ্ধ হয়েই মৃত্যু হয়েছে প্রত্যেকের। এরপর তাঁদের দেহগুলি সম্পূর্ণ ঝলসে যায়। ঝলসে যাওয়ার পর মৃতদেহগুলির এমন অবস্থা যে আলাদা করে সনাক্তকরণ করাই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেলের ডেপুটি চিফ কমার্শিয়াল অফিসার বিল্ডিং’য়ের তিনতলার একটি ঘরে বসতেন। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় তিনি ১৩ তলায় কী করতে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে প্রশ্ন।

মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন রাতেই মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের কাজ সম্পন্ন হবে। সোমবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছবে উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল। মঙ্গলের সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে ফরেন্সিক দলও। আরপিএফের সঙ্গে সমন্বয় করেই তদন্ত এগোবে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।

সোমবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। রেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের কথা জানানো হয়েছে এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এটা রেলের জায়গা, কিন্তু দুর্ঘটনার সময় রেলের কোনও আধিকারিক ছিলেন না ঘটনাস্থলে।

সূত্রের খবর আলাদা-আলাদা করে ভয়াবহ এই অগ্নিকান্ডের তদন্ত করবে রেল, দমকল বিভাগ এবং কলকাতা পুলিশ। আগুন লাগলে কোনও ভবনে লিফট চালানোর নিয়ম নেই। কেন এক্ষেত্রে দুর্ঘটনার সময় লিফট চালু রাখা হল, কেন মৃতেরা প্রত্যেকেই লিফটে উঠেছিলেন সেই বিষয় নিয়ে তদন্ত করবে দমকল বিভাগ। জানান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.