নয়াদিল্লি: দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। খাবার কিনতে দোকানে ছুটছেন মানুষজন। ভাইরাস থেকে বাঁচতে এটাই একমাত্র উপায় বলে মনে করছে প্রশাসন। এই অবস্থায় সস্তায় চাল, গম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার।

দেশে করোনা সংক্রমণের আতঙ্কের মধ্যেই বুধবার রেশন নিয়ে বড় ঘোষণা করল মোদী সরকার। বুধবার সকালে বসেছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক। সেখানে মন্ত্রীরা বসেছিলেন দূরে দূরে, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখতে।

বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সেই বৈঠকে সাধারণের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রুখতে একমাত্র উপায় যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

সব মন্ত্রীরা এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁদের সবাইকে দেখা গিয়েছে দূরে দূরে আলাদা চেয়ারে বসতে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার এই বৈঠকেই দেশের ৮০ কোটি মানুষকে কম দামে খাদ্যশস্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, দেশের ৮০ কোটি মানুষকে কম দামে রেশন দেওয়া হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি পিছু ৭ কেজি করে রেশন দেওয়া হবে। রেশন দেওয়া হবে ৩ মাসের অগ্রিম।

এছাড়া, কমদামে মিলবে রেশন। ৮০ কোটি লোককে ২৭ টাকা কেজির গম ২ টাকা কেজি দরে আর ৩৭ টাকার চাল ৩ টাকা কেজি দরে দেবে। এর জন্য সরকারের খরচ ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আবেদন মন্ত্রীর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আবেদন মন্ত্রীর মন্ত্রী জানিয়েছেন, করোনার সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনও ধরনের গুজবে কান না দিতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়া, করোনা মোকাবিলায় আয়ুশ হাসপাতালগুলিকেও ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্র। দেশের সব আয়ুশ হাসপাতালকে চিঠি লিখে সে কথা জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় আয়ুশ সচিব রাজেশ কোটেচা। এ রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ষোলোটি আয়ুশ হাসপাতাল রয়েছে। সরকারি হোমিওপ্যাথি হাসপাতাল চারটি, আয়ুর্বেদ হাসপাতাল তিনটি। বেসরকারি হোমিওপ্যাথি হাসপাতাল সাতটি, আয়ুর্বেদ হাসপাতাল রয়েছে দু’টি। একটি বেসরকারি উদ্যোগে চলা ইউনানি হাসপাতাল রয়েছে।

সব হাসপাতালেরই অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছেন কোটেচা। কার কত শয্যা, কত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী তার তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, আয়ুর্বেদের দৌলতেই চিন করোনা মহামারীকে তাড়াতাড়ি সামলাতে পেরেছে। তাঁরা একটি পেপারও জনসমক্ষে এনেছেন। যাতে দেখা যাচ্ছে, চিনে ৭০১ জন করোনা পজিটিভ রোগীকে একটি আয়ুর্বেদিক ক্বাথ খাওয়ানো হয়েছে।