স্টাফ রিপোর্টার, আলিপুরদুয়ার: নতুন অতিথি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে। শুক্রবার কাকভোরে জলদাপাড়ায় এসে পৌঁছয় সুদূর কর্ণাটকের আটটি কুনকি হাতি। প্রায় ৩২৫০ কিলোমিটার পথ লরিতে চেপে ৫৮ ঘন্টা পর জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের উত্তর রেঞ্জের ফিফটি বিটের হস্তিশালায় এসে নামে ওই আট হাতি। তখন তাদের চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। ওই হস্তিশালাতেই আগামী কয়েক মাস ধরে তাদের কঠোর প্রশিক্ষন দেওয়া হবে।

দুই রাজ্যের ভাষায় তারতম্য থাকায় হাতিদের স্থানীয় কমান্ড রপ্ত করাতে কর্ণাটক থেকে জলদাপাড়ায় এসেছেন ১৮ সদস্যের একটি অভিজ্ঞ মাহুতদের দল। আর ওই সমগ্র প্রশিক্ষণের বিষয়টি দেখভাল করবেন বিশিষ্ট হস্তি বিশেষজ্ঞ পার্বতী বরুয়া।

আরও পড়ুন: পর পর স্কুলে কম্পিউটার চুরিতে রহস্য

স্থানীয় ভাষা রপ্ত করতে ঠিক কত দিন সময় লাগতে পারে কর্ণাটকের হাতিদের? ওই প্রশ্নের উত্তরে পার্বতী দেবী জানিয়েছেন, হাতিরা এতটাই স্বভাববুদ্ধি সম্পন্ন জীব যে মাত্র মাস দুয়েকের মধ্যেই ওরা স্থানীয় ভাষার সঙ্গে সরগর হয়ে যাবে অনায়সেই। এমনিতে তো ওদের সব সহবৎ জানাই আছে। সমস্যা শুধু ভাষায়।

নতুন আনা কর্ণাটকের এক হাতিকে কীভাবে পরিচালনা করতে পারল জলদাপাড়ার মাহুত আইনুল হক? আইনুল জানিয়েছেন, পায়ের ইসারা ও খোঁচাতেই ও খুব সহজে সব কিছু বুঝে নিয়েছে। কোনও অসুবিধে হয়নি। কিন্তু জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে ৭০টি কুনকি হাতি থাকা সত্ত্বেও কেন আনতে হল কর্ণাটকের হাতি?

এই বিষয়ে বনদফতরের কর্মীরা জানিয়েছেন, জলদাপাড়ায় যে কুনকি হাতিরা রয়েছে তাদের মধ্যে বেশ কিছু হাতি বয়সের ভারে ন্যুব্জ। আর একটা বিরাট অংশের হাতি সদ্য কৈশরে পা রাখায় তাদের দিয়ে জঙ্গল প্রহরা ও পর্যটকদের বনে ঘোরানোর কাজে লাগানো সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: জন্মদিনে কী করছেন টলিউড কুইন কোয়েল

আদতে তাদের কুনকি পাঠের সহবৎ পর্বই শেষ হয়নি। বেশ কিছু দিন ধরেই জলদাপাড়ায় বেড়াতে আসা পর্যটকরা হাতির পিঠে ওঠার সুযোগ না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ওই সমস্যার সমাধানে কর্ণটকের দ্বারস্থ হয় বনদফতর। কোনও রকম বন্যপ্রাণী প্রত্যর্পণ ছাড়াই ওই রাজ্য পশ্চিমবঙ্গকে হাতি দিতে রাজি হয়ে যায়।

বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ জানিয়েছেন, কর্ণাটক মোট ১৫ টি হাতি দিতে রাজি হয়েছে। আপাতত ৮টি হাতি আনা হয়েছে। আগামীতে আসছে আরও সাতটি হাতি। মূলতঃ ওই ভিন রাজ্যের হাতি গুলিকে পর্যটনের প্রসারে ব্যাবহার করা হবে। প্রশিক্ষণ পর্ব মিটে যাওয়ার পর ফরেস্ট কর্পরেশনকে আপাতত দুটি হাতি দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: মোবাইল-ইন্টারনেট ছাড়াও টাকা দেওয়া-নেওয়া করা যাবে Paytm-এ

জলদাপাড়া বন বিভাগের ডিএফও কুমার বিমল জানিয়েছেন, কর্ণাটক থেকে নিয়ে আসা হাতিগুলির মধ্যে একটি হাতিরই বয়স প্রায় ষাট বছরের উপরে। বাকি গুলির গড় বয়স আট থেকে বারো বছরের মধ্যে। দেহের গঠনও অত্যন্ত সুঠাম। তাই ওদের মানিয়ে নিতে কোন অসুবিধা হওয়ার কারণ নেই।

কর্ণাটক আর এই রাজ্যের বনাঞ্চলের মধ্যে অনেক মিল থাকায় কাজটা অনেক সহজ হবে। প্রশিক্ষণ পর্বে যদি বোঝা যায় যে ওই আটটি হাতির মধ্যে কোনটি অত্যন্ত পারদর্শী তবে তাকে জঙ্গল সুরক্ষার কাজেও লাগানো হতে পারে।

আরও পড়ুন: আকাশসীমা লঙ্ঘন করে চার ঘণ্টা চক্কর কাটল চিনা যুদ্ধবিমান