নয়াদিল্লি: পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে উঠে আসতে পারে বড়সড় কম্পন৷ যা মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে বিশ্বকে৷ আগামী দুদিনের মধ্যে ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের সাবধানবাণী শোনাচ্ছেন ভূতত্ববিদরা৷

সৌরজগতের অবস্থানগত কিছু পরিবর্তনের জন্য পৃথিবীতে এই ভূমিকম্প দেখা দিতে পারে৷ বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে ক্রিটিক্যাল জিওমেট্রি৷ ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ডিট্রিনিয়াম জানাচ্ছে সৌরজগতে বুধ, মঙ্গল ও নেপচুন গ্রহের অবস্থানগত পরিবর্তনের কারণে ফল ভুগতে হতে পারে পৃথিবীকে৷ পরিবর্তন হবে সূর্যের অবস্থানেরও৷ ফলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পৃথিবীর ওপর৷

গ্রহ ও সূর্যের পারস্পরিক টান ও মাধ্যকর্ষণ শক্তির বাড়া কমার প্রভাবেই এই কম্পনের সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে৷ বিজ্ঞানী ও ডিট্রিনায়াম ওয়েবসাইটের সম্পাদক ফ্রাংক হুগারবিটস জানাচ্ছেন মাধ্যকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পৃথিবীর টেকটনিক পাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে৷ ফলে এই পাতগুলিও একে অপরের দিকে সরে আসতে পারে৷ মে মাসের ৪ তারিখের মধ্যে এই ভূমিকম্পের মুখে পড়তে পারে পৃথিবী৷ যার জেরে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির আশংকা থাকছে৷

উল্লেখ্য, গত ১০০ বছরে যখনই পৃথিবীর কক্ষপতে তাঁর গতিতে পরিবর্তন এসেছে, তখনই কোনও না কোনও বড় সড় ভূমিকম্প হয়েছে৷ এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে জিওলজিকাল সোসাইটি অব আমেরিকার বার্ষিক সম্মেলনে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি কমে গেলে বিষুবরেখা সংলগ্ন এলাকার প্রসারন কমে আসে৷ কিন্তু টেকটোনিক পাতগুলি সহজে সংকোচন হয় না৷ ফলে টান বাড়ে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রে৷ তৈরি হয় কম্পন৷

উল্লেখ্য গত বছরই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল আইআইটি খড়্গপুরের গবেষকরা। প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠতে পারে কলকাতা। গবেষকদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভয়াবহ ভূমিকম্পে যে কোনও সময় মুহূর্তে তছনছ হয়ে যেতে পারে কলকাতা সহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। এই কম্পনের মাত্রা হতে পারে রিখটার স্কেলে ৬.১ থেকে ৬.৮ মাত্রার মধ্যে। বছর ৫০ বাদে সেই কম্পনের মাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সিসমোলজিক্যাল মাইক্রোজোনেশনের একটি ম্যাপ তৈরি করেছে আইআইটি খড়্গপুর। তার মাধ্যমে কলকাতায় ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুমান করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি এড়াতে কি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে তার দিক নির্দেশ পাওয়া যাবে সেখানে।

কলকাতা সহ–বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিকম্পের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। আর সবথেকে বেশি বিপজ্জনক অবস্থানে রয়েছে কলকাতার পার্কস্ট্রিট, সল্টলেক, নিউটাউন, রাজারহাট, দমদমের মতো এলাকা। জনবহুল এইসব এলাকায় যে ব্যাপক ক্ষতি হবে, সেই আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।