দুবাই: আইপিএলে নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সহবস্থান৷ আইপিএলের ত্রয়োদশ সংস্করণে মহেন্দ্র সিং ধোনি, বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার পাশাপাশি এবার দু’টি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নেতৃত্ব দেবেন ভারতের দুই তরুণ ব্যাটসম্যান৷ এঁরা হলেন লোকেশ রাহুল ও শ্রেয়স আইয়ার৷ শ্রেয়স গত বছরও দিল্লি ক্যাপিটালসকে নেতৃত্ব দিলেও এবার কিংস ইলেভেন পঞ্জাবকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যাবে রাহুলকে৷ আটটি দলের মধ্যে ছ’টি দলকে নেতৃত্ব দেবেন ভারতীয়রা৷ বাকি দু’টি দলের নেতৃত্ব থাকছে দুই অজি ক্রিকেটারের হাতে৷

মহেন্দ্র সিং ধোনি (চেন্নাই সুপার কিংস): আইপিএলের ১২ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন ধোনি৷ এর মধ্যে ১০ বছর সুপার কিংস আর দু’ বছর পুণে সুপারজায়েন্টকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি৷ ধোনি আইপিএলে ১৭৪টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ যা আইপিএলে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি৷ অধিনায়ক হিসেবে ১০৪টি ম্যাচ জিতেছেন ধোনি৷ হেরেছেন ৬৯টি ম্যাচ৷ আর একটি ম্যাচ রেজাল্ট হয়নি৷ ধোনির নেতৃত্বে সুপার কিংসের জয়ের শতকরা হার ৬০.১১৷

বিরাট কোহলি (রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর): টিম ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন আইপিএলে নেতৃত্ব দেবেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর৷ বিরাটই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি ১২ বছর ধরে একই দলে খেলছেন৷ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ১১০টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরাট৷ যার মধ্যে ৪৯টি জিতেছেন৷ আর হেরেছেন ৫৫টি ম্য্যাচে৷ আর চারটি ম্যাচের রেজাল্ট হয়নি৷ এছাড়াও দু’টি টাই ম্যাচের সাক্ষী ছিলেন কোহলি৷ তবে দীর্ঘদিন আরসিবি-কে নেতৃত্ব দিলেও একবারও ট্রফি দিতে পারেননি বিরাট৷ নেতা হিসেবে তাঁর সেরা পারফরম্যান্স ২০১৬ আইপিএলে রানার্স৷

রোহিত শর্মা (মুম্বই ইন্ডিয়ান্স): শুধু মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের নয়, আইপিএলের ইতিহাসে সবেচেয়ে সফল অধিনায়কের নাম রোহিত৷ আইপিএলে ক্যাপ্টেন হিসেবে ধোনিকেও সাফল্যের নিরিখে পিছনে ফেলে দিয়েছেন মুম্বই ক্যাপ্টেন৷ সর্বাধিক চারবার ট্রফিজয়ী অধিনায়ক রোহিত৷ আইপিএলের ইতিহাসে কোনও ক্যাপ্টেনের এই রেকর্ড নেই৷ ক্যাপ্টেন হিসেবে ১০৪টি ম্যাচ খেলেছেন রোহিত৷ এর মধ্যে তাঁর দল জিতেছে ৬০টি৷ হেরেছে ৪২টি ম্যাচে৷ আর টাই হয়েছে দু’টি ম্যাচে৷

দীনেশ কার্তিক (কলকাতা নাইট রাইডার্স): তামিলনাড়ুর উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আইপিএলে দু’টি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ অতীতে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে(এখন দিল্লি ক্যাপিটালস) নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ এখন তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক৷ ক্যাপ্টেন হিসেবে আইপিএলে ৩৬টি ম্যাচ খেলেছেন কার্তিক৷ এর মধ্যে ১৭টি ম্যাচে জয় পেয়েছেন৷ একটি ম্যাচ টাই হয়েছে৷ তাঁর জয়ের শতকরা হার ৪৮.৬১৷

ডেভিড ওয়ার্নার (সানরাইজার্স হায়দরাবাদ): অজি তারকা ব্যাটসম্যান ওয়ার্নারের নেতৃত্বে ২০১৬ আইপিএল খেতাব জিতেছে সানরাইজার্স৷ তবে গত বছর বল-টেম্পারিং কাণ্ডের জন্য এক বছরের নির্বাসনের কারণে ২০১৮ আইপিএল খেলেননি৷ তবে ২০১৯ আইপিএলে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বে খেলেছেন৷ কিন্তু এই আইপিএল নেতা হিসেবে সানরাইজার্সে যোগ দিয়েছেন বাঁ-হাতি অজি ব্যাটসম্যান৷ সানরাইজার্সের হয়ে ৪৫টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ এর মধ্যে ২৬টিতে জিতেছেন এবং ২১টি হেরেছেন৷ ওয়ার্নারের শতকরা হার ৫৫.৩১৷

স্টিভ স্মিথ(রাজস্থান রয়্যালস): আর এক অজি তারকা স্টিভ স্মিথ আইপিএলের নেতা৷ স্মিথ তিনটি আইপিএল দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক এর আগে দু’টি দল পুণে ওয়ারিয়স এবং রাইজিং পুণে সুপারজায়েন্টকে নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ ওয়ার্নারের মতো স্মিথও বল-টেম্পারিং কাণ্ডের জন্য এক বছরের নির্বাসিত ছিলেন৷ ফলে ২০১৮ আইপিএলে খেলেননি৷ ২০১৯ আইপিএলে খেলেছেন অজিঙ্ক রাহানের নেতৃত্বে৷ আইপিএলে ২৯টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ এর মধ্যে ১৯টি ম্যাচে জয় এবং ৯টিতে হার৷ একটি নো-রেজাল্ট৷

শ্রেয়স আইয়ার (দিল্লি ক্যাপিটালস): আইপিএলে সবচেয়ে কম বয়েসি নেতা৷ ২০১৮ আইপিএলের মাঝপথে গৌতম গম্ভীর দিল্লি ডেয়ারভিলসের (এখন দিল্লি ক্যাপিটালস) নেতৃত্ব ছাড়ায় নেতার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় আইয়ারের হাতে৷ গত আইপিএলে তাঁর নেতৃত্ব দিল্লি ক্যাপিটালস টুর্নামেন্ট তিন নম্বরে শেষ করে৷ ক্যাপ্টেন হিসেবে ১৩টি ম্যাচ জিতেছেন৷ হেরেছেন ১০টি ম্যাচে৷

লোকেশ রাহুল (কিংস ইলেভেন পঞ্জাব): চলতি আইপিএলেই নেতা হিসেবে অভিষেক হতে চলেছে লোকেশ রাহুলের৷ কিংস ইলেভেনকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি৷ গত বছর রবিচন্দ্রন অশ্বিনের নেতৃত্বে কিংস ইলেভেন খেলেছেন রাহুল৷ এবার অশ্বিন না-থাকায় প্রীতি জিন্টার দলের নেতৃত্ব উঠেছে রাহুলের হাতে৷

দেশে এবং বিদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে টানা দু'দশক ধরে কাজ করেছেন । বাংলাদেশ থেকে মুখোমুখি নবনীতা চৌধুরী I