নয়াদিল্লি:  একের পর এক বিপদের মুখে বিশ্ব। প্রথমে বলা হয়েছিল পাঁচটি গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে আছড়ে পড়তে চলেছে। আর তা ঘটতে চলেছে ভারতীয় সময় বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে। কিন্তু নিউজ ১৮ হিন্দি তাঁদের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পাঁচটি নয়, আটটি আর্থ অবজেক্ট পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে।

নাসাকে উদ্ধৃত করে ওই সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ৫ জুন ঠিক ভোর ৪.৪৪ মিনিটে এক্সটেরয়েড ২০২০ কেএন ৫ পৃথিবীর কান ঘেঁষে চলে যাবে। এর গতিবেগ ১২.৬৬ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ডে হবে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তবে বিশাল আকারের এই গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করবে না বলেই জানাচ্ছেন গবেষকরা। তাঁরা দেখেছেন, পৃথিবী থেকে ৬১ লক্ষ কিমি দূর থেকে সেটি কার্যত ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে যাবে৷ এটা তো সকালের কথা! সন্ধ্যাতেও বিপদ ঘাড়ের কাছে।

প্রকাশিত সংবাদ জানাচ্ছে, পাঁচ জুন সন্ধ্যাতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে আরও একটি গ্রহাণু। সন্ধ্যা ৫ টা ৪১ মিনিটে আরও একটি বিশাল আয়তনের গ্রহাণু ২০২০ কেএ৬ পৃথিবীর থেকে ৪৪.১৩ লক্ষ কিমি দূর থেকে বেরিয়ে যাবে ৷ যার গতিবেগ ৪১,৬৫২ কিমি প্রতি ঘণ্টায় হবে বলে প্রকাশিত খবর জানাচ্ছে।

ছয় জুন সকাল থেকে আরও একিটি গ্রহাণু ধেয়ে আসবে। এটিরও পৃথিবীতে আঘাত করার সম্ভাবনা অনেক কম। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ৮.৫০ মিনিটে এস্টেরেয়ড ২০০২ এনএন ৪ পৃথিবীর একেবারে কানের পাশ দিয়েই বেরিয়ে যাবে৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন কপাল জোরে বাঁচবে এই ব্রহ্মান্ড। এস্টেরেয়ড ২০০২ এনএন ৪ এর গতিবেগ ৪০,১৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টায়। নাসা সূত্রে খবর, এস্টেরেয়ড ২০০২ এনএন ৪-এর ব্যাস ৫৭০ মিটার হবে ৷ যা কিনা প্রায় ৫টি ফুটবল ময়দানের সমান।

এই সমস্ত নিয়ে ভাবতে ভাবতেই মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নজরে থাকবে রাতের গ্রহাণুটির দিকে। কারণ ৬ জুন প্রায় রাতে ১১.০৮ টায় গ্রহাণু ২০২০ কেকিউ ১ নির্গত হবে ৷ ৬ জুন বিকেল ৪.৩০ এর কাছাকাছি ২০২০ কেওএ ১ নামের এস্টেরেয়ড পৃথিবীর পাশ দিয়ে নির্গত হবে ৷ এর গতিবেগ ঘণ্টায় ২১,৯৩০ কিমি ৷

তবে এর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর। রাতের দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুটি খুব একটা বিশাল আকারের হবে না। এরপর রাত ৮.৪৫ মিনিট পরে পৃথিবী থেকে ১৪.৩১ লক্ষ কিমি দূরে এস্টেরেয়ড ২০২০ এলএ নির্গত হবে ৷ নিউজ ১৮ হিন্দিতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আজ ৫ এবং আগামীকাল ৬ জুনের পরেও অপেক্ষা করছে আরও বিপদ।

কারণ ৭ জুন দুপুরে ১২.০৩ টায় পৃথিবীর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাবে আরও একটি গ্রহাণু। যার গতিবেগ ঘণ্টায় ২৬,৪২৪ কিমি হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা৷ এক ঘণ্টার ভিতরেই ৭ জুন ফের বেলা ১২.৪৫ মিনিটে পৃথিবীর পাশ দিয়ে এস্টেরেয়ড ২০২০ কেকে৩ বেরিয়ে যাবে।

যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৮.০২ লক্ষ কিমি দূর দিয়ে বেরিয়ে যাবে বলে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে। অনেকে বলছেন, আগামী ৭২ ঘন্টা মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছে রীতিমত চ্যালেঞ্জের। কার্যত নাওয়া-খাওয়া ভুলে দূরবীনে নজর থাকবে তাঁদের। প্রতি মুহূর্তের দিকে নজর থাকবে। তবে মনে করা হচ্ছে, একটিও পৃথিবীকে আঘাত করবে না। কিন্তু তাও যদি ভুলবশত পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে ঢুকে আসে তাহলে তা মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যাবে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প