পর্ণা সেনগুপ্ত : শ্রীজাত লিখেছিলেন মধ্যমেধায় বেমানান ছিলে বড়। দামি কেয়ারিতে যেমন জংলা ফুল – শেষবার এসে নিয়ে চলে গেল ঝড়ও, অভিযানে আর লাগবে না মাস্তুল। তবু থেকে যাবে কথাদের ফাঁকে ফাঁকে কী অতর্কিতে জ্বলে ওঠা দুই চোখ, সাড়া দিতে হয়, পর্দা যখন ডাকে। তারিফে দাঁড়ায় মহাকাল। দর্শক। প্রখ্যাত অভিনেতার প্রয়াণের এই এপিটাফ কি স্বচ্ছন্দে বসে যায় তোমার চলে যাওয়ার পথেও।

এই শহর বুঝতে পারেনি তোমায়। তবু ফাঁকা লাগে। ঋতুপর্ণ ঘোষ, তোমার চলে যাওয়ার সাত বছর পরেও ফাঁকা লাগে ওই পর্দাটা, যেখানে ম্যাজিক হত। ঝরে পড়া চিনার পাতা পেরিয়ে বহমান ভাঙাচোরা জীবনটা নিয়েই ম্যাজিক করতে তুমি। বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির স্বামী কেন আসামী আর বেদের মেয়ে জোছনার কমার্শিয়াল পথকে কীভাবে দৃশ্যশৌখিনতায় মুড়ে ফেলতে হয়, চিনিয়ে ছিলে তুমি। তীব্র দহনের পর তাই উৎসবে মেতেছিলাম আমরা।

আমরা, যারা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ভালো ছবি শুষে নিই চাতক পাখির মত। তাদের কাছে তুমি ছিলে সেই অলকনন্দা। আজও বারবার দেখতে বসি উনিশে এপ্রিল, রেনকোট মত মাইলস্টোনগুলো, যা পিছনে ফেলে রেখে গেছ আমাদের জন্য। সাত বছর ধরে ভাল জাতের বাংলা সিনেমার সংজ্ঞা শিখছি আমরা তোমারই ফেলে যাওয়া পথের বাঁক ধরে। তবু তোমাকে বুঝিনি আমরা। তোমার সেই বেশ, তোমার কথা বলার ভঙ্গী বারে বারে বেমানান ঠেকেছে আমাদের কাছে। রূপান্তরকামী তুমি আগলে রেখেছ নিজেই নিজেকে।

একরাশ অভিমান বারবার পর্দায় ফুটে উঠেছে। তবু এই শহর বোঝেনি তোমায়। সত্যজিত, মৃণাল, ঋত্তিক ঘটকের পর জাত চিনিয়েছো তুমি, তবু আমরা বুঝিনি তোমায়। ভাল থেকো ঋতুপর্ণ। তোমার চরিত্ররা আগলে রাখুক তোমায়। স্মৃতিরা সতত সুখের হয় না। তোমার স্মৃতি কাঁদায়, বেদনা দেয়, কখনও জড়িয়ে ধরে বড় আপনের মতো।

বড় তাড়াতাড়ি চলে গেলে তুমি। অপূর্ণ থেকে গেল কত কথা, কত ছবির প্রত্যাশা, কত সুখস্মৃতি। পরের জন্ম যদি থেকে থাকে, সে জন্মে সাধ মিটিয়ে সাধ পূরণ করো ঋতুপর্ণ। নিজের…..সাথে আমাদেরও। তোমার কোনও গান যেন তখন মাঝপথে থেমে না যায়। কোনও ভালবাসা যেন মাঝপথে পথ না হারায়। নিজের আঙ্গিকে ভালবেসো, নিজের মত করে। সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কলকাতা ২৪x৭ পক্ষ থেকে রইল একরাশ ভালবাসা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।