নয়াদিল্লি: ক্রমশ উপকূলের কাছে পৌঁছচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’। ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঝড়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও করা হচ্ছে। আর সেই ঝড়ের জন্যই বাতিল করা হল বহু ট্রেন।

বুধবার সন্ধে ৬ টা থেকেই বহু ট্রেন বাতিল করে দিয়েছে রেল। গুজরাত থেকে ছাড়ে এমন ১১০ টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। আগামী দু’দিন বাতিল থাকবে সেসব ট্রেন। ভারতীয় রেল জানিয়েছে, বাতিল ট্রেনের বদলে চালানো হবে কিছু স্পেশাল ট্রেন। বৃহস্পতিবারই গুজরাত উপকূলে পোরবন্দরের কাছে ‘বায়ু’ আছড়ে পড়বে বেল আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই তার আগে ট্যুইট করে ট্রেন চলাচলের বিষয়ে জানিয়েছে রেল।

গুজরাতের একাধিক স্টেশনে সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বুধাবর সন্ধে ৬টা থেকে বন্ধ হয়েছে ট্রেন। ১৪ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ৬থেকে ১০ টি কোচ নিয়ে স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

ইতিমধ্যেই তিন লক্ষ লোককে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ৭০০ টি সাইক্লোন শেল্টারে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গুজরাতের গান্ধীনগর, ভাবনগর পারা, পোরবন্দর, ভেরাভার ও ওখা এলাকা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানা গিয়েছে।

ন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট রিলিফ ফোর্স প্রায় ৫২ টি দল প্রস্তুত রেকেছে৷ প্রতিটি দলে ৪৫ জন করে উদ্ধারকারী রয়েছে৷ স্ট্যান্ড বাই রয়েছে ভারতীয় সেনাও৷ পাশাপাশি বায়ুসেনা এবং নৌসেনা এয়ারক্র্যাফ্ট এবং যুদ্ধজাহাজ নিয়েও প্রস্তুত৷ গুজরাতের ১০ জেলায় ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ট্যুইট করে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তিনি গুজরাত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও উল্লেখ করেছেন। স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি। সাইক্লোন মোকাবিলার পুরো প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা গান্ধীনগরের সাংসদ অমিত শাহ।

বিমানযাত্রীরা যাতে কোনওরকম বিপদে না পড়ে যান তার জন্য বিমান পরিষেবা বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে বন্ধ রাখা হয়েছে৷ এই তালিকায় রয়েছে পোরবন্দর, দিউ, ভাবনগর, কেশোড় এবং কান্ডলা বিমানবন্দরগুলি৷ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত্রি পর্যন্ত এইসব বিমানবন্দরে পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

১৩ জুন ঘন্টায় ১৪০-১৫০ কিলোমিটার বেগেই দিউ এলাকাসহ আশেপাশে আছড়ে পড়বে এই সাইক্লোন৷ লাক্ষাদ্বীপের কাছে অবস্থান করছে সাইক্লোন Vayu৷ বৃহস্পতিবার সকালেই এর গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৬৫ কিমি৷ বুধবার থেকেই ঝোড়ো হাওয়ার দাপট শুরু হয়েছে৷ সঙ্গে ভারি বৃষ্টি৷ মৌসম ভবন জানাচ্ছে গুজরাতে বৃহস্পতি ও শুক্রবার ১১০ কিমি বেগে ঝড় বইবে, সঙ্গে থাকবে বৃষ্টি৷ সতর্ক করা হয়েছে উপকূলীয় এলাকা সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছকে৷