আহমেদাবাদ: ক্রমেই বাড়ছে সংক্রমণ। দেশের অন্যান্য অংশের পাশাপাশি মারণ করোনা থাবা বসিয়েছে গুজরাতেও। এখনও পর্যন্ত গুজরাতে প্রায় একশোর কাছাকাছি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারণ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত সে রাজ্যে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা আক্রান্তদের রাজ্যের একাধিক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এবার ট্রেনের কোচেও তৈরি করা হল আইসোলেশন ওয়ার্ড।

আহমেদাবাদ রেলওয়ে ডিভিশনের ৭০টি ট্রেনের কোচে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে অচিরেই হাসপাতালগুলিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড ভর্তি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণেই একসঙ্গে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষকে যাতে আইসোলেশনে রেখে তাঁদের চিকিৎসা করা যায় সেই লক্ষ্যেই এবার ট্রেনের কোচগুলিকে আইসোলেশন ওয়ার্ড বানানোর তৎপরতা নিয়েছে প্রশাসন।

আহমেদাবাদ রেলওয়ে ডিভিশনের মনিনগর রেলওয়ে ডিপোতে থাকা কোচ পুরোপুরি রেডি। আইসোলেশন ওয়ার্ডে যে ধরনের চিকিৎসার সরঞ্জাম থাকে সেই সব প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সরঞ্জাম কোচের মধ্যে রাখা হয়েছে।

আহমেদাবাদ রেলওয়ে ডিভিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, করোনার সংক্রমণ ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। ট্রেন গুলির ৭০টি কোচকে ইতিমধ্যেই আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। যাতে বেশি সংখ্যায় কোভিড-19 আক্রান্ত হলে ট্রেনের কোচে এনে আক্রান্তদের চিকিৎসা করা যায়।

গুজরাতের রাজধানী আহমেদাবাদে ক্রমেই বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা। ইতিমধ্যেই আহমেদাবাদকে করোনার ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আহমেদাবাদ রেলওয়ে ডিভিশনের ম্যানেজার দীপক কুমার ঝা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এমন সন্দেহ হলেই তাঁদের এনে ট্রেনের কোচে থাকা আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হবে। ৭0টি ট্রেনের কোচ এখন আইসোলেশন ওয়ার্ড হয়েছে। রেলের পাঁচটি ডিপোয় কোচগুলি রাখা থাকবে। মনীনগর ডিপোয় ২৫টি আইসোলেশন কোচ রাখা হবে।

ওই রেলকর্তা আরও জানিয়েছেন, ট্রেনের প্রতিটি কোচে তৈরি হওয়া আইসোলেশন ওয়ার্ডে আটজন করে রোগী থাকতে পারবেন। চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে দ্রুত ট্রেনের কোচগুলিকে আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এক-একটি কোচে চারটি করে শৌচালয় রাখা হয়েছে। এরই পাশাপাশি কোচের একদিকে স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্যও আলাদা কেবিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।