কোচি: সংখ্যাটা বাড়ছে৷ সাথে বাড়ছে আতঙ্ক৷ ইতিমধ্যেই এক থেকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে৷ কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেকে শৈলজা এই তথ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার জানান এদের প্রত্যেকের রক্তের নমুনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে৷

বৃহস্পতিবার নিপা ভাইরাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ও এর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন প্রতিটি হাসপাতালকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে৷ পরিকাঠামোর সঙ্গে সমঝোতা করা চলবে না বলে নির্দেশ দেন তিনি৷

ছজনের রক্তের নমুনা পুনের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ভাইরোলজিতে পাঠানো হয়েছে৷ সেখানেই পরীক্ষা করে দেখা হবে নিপা ভাইরাস আদৌ এদের শরীরে রয়েছে কিনা৷ বৃহস্পতিবারই সেই রিপোর্ট মিলবে বলে খবর৷

আরও পড়ুন : দ্বিতীয় মোদী সরকার জমানায় প্রথমবার কমল রেপো রেট

গত বছরই নিপা ভাইরাসের প্রকোপে কেরলে মৃত্যু হয় মোট ১৭ জনের৷ এই মারণ ভাইরাসের প্রকোপ নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কেরল সরকার৷ জ্বর, বমি, মাথা ধরা, ঝিমুনি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে ডাক্তারদের পরামর্শ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়৷ সেই সঙ্গে ফল ও শুয়োরের মাংস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়৷ কারণ শুয়োর ও এক বিশেষ প্রজাতির বাদুরের(ফ্রুট ব্যাট) শরীর থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে নিপা ভাইরাসের জন্ম দেয়৷

বুধবারই কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়ে ছিলেন, ৩১১ জনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ ৪জনকে আলাদা ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে৷ এরা গলায় সংক্রমণ ও জ্বরে ভুগছে ইতিমধ্যেই৷ কালামেস্বরী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভরতি করা হয়েছে তাঁদের৷

আরও পড়ুন : বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রী আসিয়ার সঙ্গে যোগ পাক সেনার, আইএসআইয়ের : এনআইএ

নিপা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন কথা বলেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে৷ যাবতীয় পরিষেবা দিতে কেন্দ্র তৈরি বলেও আশ্বাস দেন হর্ষ বর্ধন৷ নয়াদিল্লিতে এই সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে৷ যার নম্বর 011-23978046৷

কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানান, গোটা পরিস্থিতি খুব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে দেখছে রাজ্য সরকার৷ চিকিৎসার কোনও গাফিলতি হবে না আশ্বাস দেন তিনি৷ স্বাস্থ্যদফতরকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান বিজয়ন৷