নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : হিসেব মত সাত দিন পার। কিন্তু কথা মত সাত দিনে রিপোর্ট পেশ করল না শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গড়ে দেওয়া কমিটি।

২৯ ফেব্রুয়ারি নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে কলকাতার ধর্মতলায় প্রেস ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় অনশনে বসেছিলেন এসএসসির ৪৫০ চাকরিপ্রার্থী। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দুবারের বৈঠকে বিষয়টির সমাধান হেতু ২২ মার্চ একটি কমিটি গঠন করে দেন খোদ শিক্ষামন্ত্রীই।

পাঁচজনের এই কমিটিতে রাখা হয় বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের প্রধান সচিব মনীশ জৈন, এসএসসির চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার সহ আরও তিনজনকে। এই কমিটিতে নিজেদের দাবি লিখিত আকারে পেশ করে অনশনরত চাকরি প্রার্থীদের প্রতিনিধি দল। বলা হয় ১৫ দিনের মাথায় রিপোর্ট পেশ করবে কমিতি।

পরে অনশনের ২৮ তম দিনে চাকরিপ্রার্থীদের দাবিতে সাড়া দিয়ে অনশন মঞ্চে পৌঁছন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রীও। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘এখন মডেল কোড অফ কনডাক্ট চলছে। তাই কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে পারছি না। কিন্তু মডেল কোড অফ কনডাক্ট শেষ হলেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

নির্বাচনী বিধি চালু হওয়ায় তাঁর হাত-পা বাঁধা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এদিন মমতা বলেন, ‘আমাকে কাজ করার সুযোগ দিন। আইনের পথে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটা দেখছি।’ পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কমিটিতে পাঁচজন ছাত্রছাত্রীকে রাখুন। এর মধ্যে দু’জন ছাত্রী রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে।’

সেই মতই শিক্ষামন্ত্রীর পূর্ব গঠিত কমিটিতে নেওয়া হয় এসএসসির ৫ জনকে। অনশনের ২৯ তম দিন অনশন প্রত্যাহার করে নেন অনশনকারীরা। তার আগে কমিটিতে গিয়ে নিজেদের দাবিপত্র পেশ করে আসেন তারা। কমিটির তরফে সাত দিন সময় চাওয়া হয়। হিসেব মত সেই সাতদিন অতিক্রান্ত হচ্ছে আজ অর্থাৎ ৪ এপ্রিল। কিন্তু কোন রিপোর্ট পেশ হয় নি।

এবিষয়ে এসএসসির চেয়ারম্যান সউমিত্র সরকারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, আজ এ বিষয়ে কমিটিতে মিটিং হয়েছে। আগামী দু এক দিনের মধ্যেই রিপোর্ট পেশ করা হবে।

অনশনকারীদের এক নেত্রী অর্পিতা দাস জানান, তাঁদের ৪-৫ তারিখ করে খোঁজ নিতে বলা হয়েছিল। তাঁরা আগামীকাল ওনাদের ফোন করবেন।