সিডনি: ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাপুয়া নিউগিনি৷ মার্কিন ভূতত্ব বিশেষজ্ঞ সংস্থা ইউএসজিএস জানাচ্ছে মঙ্গলবার ভোরে সাড়ে সাতটা নাগাদ এই ভূকম্পন অনুভূত হয়৷ ভূকম্পের কেন্দ্র ছিল মাটি থেকে ১২৭ কিমি গভীরে৷ বুলোলো শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে৷

পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী পোর্ট মরেসবিতেও কম্পন অনুভূত হয়৷ একই দিনে দ্বিতীয় বার কাঁপল পাপুয়া নিউগিনি৷ ফলে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে৷ তবে ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনও খবর নেই৷ সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি৷

সোমবার দুপুর ২.১৩ মিনিটে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পানগুয়ানা৷ শহর থেকে ৭৬ কিমি পশ্চিমে ও মাটি থেকে ৫৯ কিমি গভীরে ছিল এর উৎস৷ এই কম্পনেও কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই৷

আরও পড়ুন : মোদীর সভা থেকে পতিতাপল্লীতে গিয়ে গ্রেফতার ১১ বিজেপি কর্মী

এর আগে, জানা গিয়েছিল পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে উঠে আসতে পারে বড়সড় কম্পন৷ যা মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে বিশ্বকে৷ আগামী দুদিনের মধ্যে ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের সাবধানবাণী শুনিয়ে ছিলেন ভূতত্ববিদরা৷

সৌরজগতের অবস্থানগত কিছু পরিবর্তনের জন্য পৃথিবীতে এই ভূমিকম্প দেখা দিতে পারে বলে জানানো হয়েছিল৷ বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় যার নাম ক্রিটিক্যাল জিওমেট্রি৷ ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ডিট্রিনিয়াম জানাচ্ছে সৌরজগতে বুধ, মঙ্গল ও নেপচুন গ্রহের অবস্থানগত পরিবর্তনের কারণে ফল ভুগতে হতে পারে পৃথিবীকে৷ পরিবর্তন হবে সূর্যের অবস্থানেরও৷ ফলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পৃথিবীর ওপর বলে খবর ছিল৷

গ্রহ ও সূর্যের পারস্পরিক টান ও মাধ্যকর্ষণ শক্তির বাড়া কমার প্রভাবেই এই কম্পনের সূত্রপাত বলে জানিয়ে ছিলেন বিজ্ঞানীরা৷ বিজ্ঞানী ও ডিট্রিনায়াম ওয়েবসাইটের সম্পাদক ফ্রাংক হুগারবিটস জানান মাধ্যকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পৃথিবীর টেকটনিক পাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে৷ ফলে এই পাতগুলিও একে অপরের দিকে সরে আসতে পারে৷ যার জেরে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির আশংকা থাকছে বলে জানানো হয়েছিল৷

আরও পড়ুন : বাঁকুড়ার ২০ শতাংশ বুথেও বাম-বিজেপির এজেন্ট থাকবে না: অনুব্রত

উল্লেখ্য, গত ১০০ বছরে যখনই পৃথিবীর কক্ষপথে তার গতিতে পরিবর্তন এসেছে, তখনই কোনও না কোনও বড় সড় ভূমিকম্প হয়েছে৷ এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে জিওলজিকাল সোসাইটি অব আমেরিকার বার্ষিক সম্মেলনে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি কমে গেলে বিষুবরেখা সংলগ্ন এলাকার প্রসারন কমে আসে৷ কিন্তু টেকটোনিক পাতগুলির সহজে সংকোচন হয় না৷ ফলে টান বাড়ে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রে৷ তৈরি হয় কম্পন৷