আমেদাবাদ: প্রথম দফার নির্বাচনে গুজরাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন ৬৮ শতাংশ ভোটার৷ শনিবার গুজরাতের ৮৯টি আসনে নির্বাচন ছিল৷ ওই রাজ্যের যে অংশগুলিতে এদিন ভোটগ্রহণ হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে নভসারি জেলায়৷ দক্ষিণ গুজরাতের ওই জেলার সুরাত ও কচ্ছের প্রায় ২ কোটি ভোটার ভোট দিয়েছেন৷ শতাংশের হিসেবে সংখ্যাটা প্রায় ৭৫৷ এদিনের ভোটে অবশ্য সুরাত-সহ বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে ইভিএম খারাপ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে৷

তবে সকালের দিকে চিত্রটা একেবারে অন্যরকম ছিল৷ প্রথম দু’ঘণ্টায় ৯.৭ শতাংশ ভোট পড়ে৷ দুপুর ২টোর মধ্যে সেই হার দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে৷ বিকেল চারটের সময় দেখা যায় ভোট পড়েছে ৬০ শতাংশ৷ পরের একঘণ্টায় আরও ৮ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন৷তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এই সংখ্যাটা এবারের সংখ্যাটা আরও বাড়বে৷ কারণ, এই হিসেব বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত৷ তার পরও আরও অনেকে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে৷ রাত পর্যন্ত ভোটদান পর্ব চলে৷

আরও পড়ুন: গুজরাত: শুরু হল প্রথম দফার ভোট গ্রহণ

প্রসঙ্গত, পাঁচ বছর আগে গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটদানের হার ছিল প্রায় ২ শতাংশ বেশি৷ ২০১২ সালে প্রথম দফার ভোটে গুজরাতের সেই অংশের ভোটারদের মধ্যে ৭০.৭৫ শতাংশ জন নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিল৷

এবার প্রথম দফায় যে ৮৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হল, সেই আসনগুলিতে সবমিলিয়ে লড়াই চলল ৯৭৭ জন প্রার্থীর মধ্যে৷ এই প্রার্থীদের মধ্যে ৮৯জন বিধায়ক৷ যাঁরা আবার লড়াইয়ে নেমেছেন৷ তাঁদের মধ্যে ৬৩ জন বিজেপির৷ আর কংগ্রেসের ২৬ জন বিধায়ক রয়েছেন৷ সেই তালিকায় সবচেয়ে হেভিওয়েট নাম বিজয় রূপানি৷ গুজরাতের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী লড়াই করছেন রাজকোট (পশ্চিম) কেন্দ্র থেকে৷ এছাড়াও রয়েছেন কংগ্রেসের শক্তিসিং গোহিল ও পরেশ ধানানি৷ শক্তিসিং লড়ছেন মাণ্ডভি কেন্দ্র থেকে৷ আর পরেশ ধানানি দাঁড়িয়েছেন আমরেলিতে৷

আরও পড়ুন: গুজরাত ভোটে ৩৯৭ জন প্রার্থী কোটিপতি

গুজরাতের নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম দফার এই নির্বাচন সবদলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ, এই দফাতেই গুজরাতের সৌরাষ্ট্র ও সুরাটের মানুষ ভোট দিয়েছেন৷ গুজরাতের নির্বাচনী ইতিহাস অনুযায়ী, এই দু’টি জায়গায় জয় পেলে ওই রাজ্যের মসনদ দখল অনেক সহজ হয়ে যায়৷ আর এই দু’টি জায়গা থেকে বেশি আসনে জয় পাওয়া এবার বিজেপির কাছে প্রথম দফা কার্যত অ্যাসিড টেস্ট৷ কারণ, সৌরাষ্ট্রের ১৩ শতাংশ পতিদার ভোটারদের নিয়ে গেরুয়া শিবির চিন্তায় রয়েছে৷ পতিদার সম্প্রদায়ের নেতা হার্দিক প্যাটেল গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন চালাচ্ছে নিজেদের অধিকারের দাবিতে৷ তিনি আবার এবার হাত মিলিয়েছেন কংগ্রেসের সঙ্গে৷ অন্যদিকে সুরাট বিখ্যাত হীরে ইন্ডাস্ট্রির জন্য৷ সেখানে জিএসটি ও নোট বাতিলের একটা বড় প্রভাব পড়েছে৷ তবে অন্দরের চিন্তাকে কিছুতেই বাইরে আসতে দিতে নারাজ বিজেপি শিবির৷ তাই প্রথম দফার আসনগুলিতে বিজেপি বিপুল ভোটে জিতবে বলে শনিবার দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি৷

আরও পড়ুন: গুজরাতে ভোটের প্রচারে বেরিয়ে আটক কংগ্রেসের গব্বর-ঠাকুর

স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বস্ত্র ব্যবসাকে অন্যমাত্রা দিয়েছেন।'প্রশ্ন অনেকে'-এ মুখোমুখি দশভূজা স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল I