ঢাকা: রাষ্ট্রভাষা বাংলা করতে হবে, মাতৃভাষার বদলে জোর করে উর্দু চাপানো চলবে না। পাক সরকারের উর্দু ফতোয়ার বিরোধিতা রক্তাক্ত হয়েছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান। তারই পরবর্তী পর্ব বাংলাদেশ তৈরি।

আর এই দেশেই এখন প্রাথমিক শিক্ষার পড়ুয়াদের ৬৫ শতাংশ বাংলাই ঠিকমতো জানে না। বিশ্বব্য়াংকের এই তথ্য ও রিপোর্টকে ভিত্তি করে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

এদিকে ভারতে চলছে হিন্দি কে রাষ্ট্র করার জন্য সংঘ পরিবার নিয়ন্ত্রিত বিজেপি সরকারের প্রয়াস। হিন্দি শিখতেই হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে চলছে প্রতিবাদ।

ভারতে থাকা বাঙালিরা হিন্দি নিয়ে দুই শিবিরে বিভক্ত। আর এরই মাঝে বাংলাভাষী বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় বাংলা শেখার করুন হাল উঠে এল বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্টে।

সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে বিবিসি জানাচ্ছে, বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার ৯৮ শতাংশ।এই শিশুরা কতটা মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করছে তাতেও প্রশ্ন থাকছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক অনুসন্ধান অনুযায়ী বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলাই পড়তে পারেনা। ইংরেজি ও অংকের দুর্বলতা তার চাইতেও বেশি।

রিপোর্টে কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বাচ্চা পড়ুয়ারা বাংলা অক্ষরই চেনে না।

প্রশ্ন, রাষ্ট্রভাষা বাংলা হয়েও কেন প্রাথমিক শিক্ষায় বাংলার এই দূরাবস্থা?

রিপোর্টে বলা হয়েছে- সরকারি নিয়মানুযায়ী শিশুদের বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তি করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ওই শ্রেণীতে পড়ার দক্ষতা সেই শিশুর নেই। সমস্যা দেখা যাচ্ছে বহু শিশুর বাংলা অক্ষর না জানার প্রবণতা বাড়ছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে-পারিবারিক কারণেই মাতৃভাষা শেখা থেকে অনেক শিশু বঞ্চিত। তাই তারা বাংলা অক্ষর চিনতে পারে না

এই দুর্বল শিক্ষার্থীদের কাছে পঠন প্রক্রিয়া সহজ করে তুলতে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

অভিযোগ, কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষকের সেই প্রশিক্ষণ নিয়মিত হয়না। আবার ইউনেস্কো গবেষণায়, বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের এই হার এশিয়ায় মধ্যে সবচেয়ে কম।

সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পড়ুয়াদের অনুপাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ শিক্ষকের অভাব। তারমধ্যে যে ক’জন আছেন তারাও তাদের পুরো সময় পড়াতে পারেন না। এই অবস্থায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা বেশ কঠিন কাজ।

এক মানবাধিকার কর্মীর দাবি,সরকারের কাজ যেমন ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ভোটগ্রহণ সহ বিভিন্ন সময়ে প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যবহার করা হয়। ফলে তারা পড়ানোর সময় কম পাচ্ছেন।

রিপোর্ট বলছে, শিক্ষকদের অল্প বেতন হওয়ায় এই পেশার প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হতে পারে। সেই কারণে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া একজন শিক্ষার্থীর যে পরিমাণ জ্ঞান থাকা দরকার তার অর্ধেকও তারা অর্জন করতে পারেনা। নিজের মাতৃভাষাতেও সে সড়গড় নয়।

বিষয়টি চিন্তার মনে করেছে বাংলাদেশ সরকার। বিশ্বব্যাংকের দেখানো তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।