নয়াদিল্লিঃ  প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে কোভিড ১৯। সারা বিশ্বে করোনা যে প্রভাব ফেলেছে তার গবেষণা থেকে এই তথ্যই উঠে আসছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক থেকেও এই ডেটা পেশ করা হয়েছে।

সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানাচ্ছে, ভারতে মৃতদের ৬০ শতাংশই হল ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক। যদিও বয়সের নিরিখে যে আক্রান্তদের রিপোর্ট দেখা যাচ্ছে তাতে রয়েছে ৪২ শতাংশ হল ২১-৪০ বছরের মধ্যে, ৩৩ শতাংশ হল ৪১-৬ বছরের মধ্যে, ১৭ শতাংশ ৬০ বছরের উপরে আর ৯ শতাংশ ০-২০ বছরের মধ্যে। তা হলে কী ভাবে বৃদ্ধদের জন্য কোভিড ১৯ সবচেয়ে ঝুঁকিবহুল!

দেখা যাচ্ছে, করোনা ভাইরাসের দ্বারা সবাই আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু বিশেষ করে যাঁদের এবং বিশেষ করে যে বৃদ্ধদের হাঁপানি, ডায়াবিটিস, হার্টের অসুখ রয়েছে তাঁরা করোনায় আক্রান্ত হলে ভয়ানক পরিণতি হয় এবং মৃত্যুর যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। প্রবীণরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন কারণ, তাঁদের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অনেকটাই কম। তাই কোভিড১৯-এর মতো নতুন ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে তার দ্বারা সংক্রামিত হন চট করেই। প্রবীণদের রক্ত তুলনামূলক ভাবে বেশি শ্বেতকণিকা তৈরি করতে পারে না।

করোনাভাইরাসের মতো মারণ ভাইরাস এর পরে ইমিউন সেলগুলিকে নিশানা করলে তা আরও ভয়ানক হয় পড়ে। আবার অনেক ক্ষেত্রে এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করেই প্রথমে ফুসফুসে আক্রমণ করে। যার জেরে নিউমোনিয়া, জ্বর ও মাল্টি অরগ্যান ফেলিওরের সম্ভাবনা থাকে। হু ও চিনের একটি রিপোর্ট বলছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে ৮০ বছরের উপরের মানুষের মধ্যে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।

৮০ বছরের উপরে চিনে মৃত্যু হয়েছে ২১.৯ শতাংশের। আর ৭০ বছরের উপরে ২২.৮ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে আগে থেকেই যাঁদের ক্যানসার, ডায়াবিটিস, হার্টের অসুখ ও হাঁপানি ছিল তাঁদের মৃত্যুর হার বেশি। ইটালির একটি রিপোর্ট বলছে, ইটালিতে এখনও পর্যন্ত ১৫,৮৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। এবং গড় বয়স হল ৭৮.৫ বছর।

ইটালিতে মৃত সবচেয়ে কমবয়সি হলেন ৩১বছরের এক ব্যক্তি। আর সবচেয়ে বেশি বয়সি হলেন ১০৩ বছরের এক বৃদ্ধ। মোট মৃতের মধ্যে ৪১ শতাংশের বয়স ৮০-৮৯ এর মধ্যে। ৩৫ শতাংশের বয়স ৭০-৭৯ এর মধ্যে। প্রবীণ নাগরিকদের সর্বোচ্চ সংখ্যার নিরিখে ইতালি রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ২৩শতাংশই হল ৬৫ বছরের উর্ধ্বে। আর সেই জন্যই ইটালিতে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে হুহু করে। দেখা যাচ্ছে, মৃতদের মধ্যে ৯৯ শতাংশ আগে থেকেই কোনও না কোনও অসুখে আক্রান্ত ছিলেন।