ফাইল ছবি

টোকিও:  নতুন বিয়ে করলেই মিলবে টাকা! হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। নব দম্পতিদের নয়া জীবন শুরুর সময় এই টাকা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। কারণ বিয়ের পর পরেই অনেক খরচ থাকে নবদম্পতিদের। আর সেই খরচ মেটাতে ৬ লাখ ইয়েন অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ৪,১৯,৪৭৫,৮৪ টাকা দেওয়ার কথা বলছে সরকার।

পড়ুন আরও- ব্যাপক শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে ‘আইডেন’, ঘন্টায় গতিবেগ ১১০ কিমি

বিয়ের পর বাড়ি ভাড়া-সহ একাধিক খরচ মেটাতেই নবদম্পতিকে বিপুল পরিমাণ এই টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাপান সরকার। তবে অবশ্যই শর্ত সাপেক্ষে মিলবে এই টাকা। সবাই সরকারের দেওয়া এই ‘উপহার’ পাবেন না। যেসব পুরসভা জাপানের ‘নিউলিওয়েড সাপোর্ট প্রোগ্রাম’ হাতে নিয়েছে, কেবল সেই সমস্ত পুরসভার বাসিন্দারাই বিপুল পরিমাণ এই অর্থ পাবেন। শুধু তাই নয়, একগুচ্ছ শর্তও রয়েছে।

যেমন এই টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বিয়ে করা স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের বয়সই ৪০ এর নিচে থাকতে হবে। এছাড়াও, দুজনের সম্মিলিত আয়ও কোনও ভাবেই ৫৪ লাখ ইয়েনের বেশি হতে পারবে না বলেও শর্তে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পড়ুন আরও- কারণ ছাড়াই মন খারাপ? ভালো থাকার উপায় বলছেন মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ নীলাঞ্জনা সান্যাল

সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের এপ্রিল থেকে বিয়েতে বিপুল পরিমাণ এই টাকা দেওয়ার নতুন নিয়ম চালুর চিন্তাভাবনা করছে জাপান সরকার। একাধিক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, অবিবাহিত থাকতে চাওয়া এবং দেরিতে বিয়ে করার প্রবণতার কারণে জাপানে এমনিতেই শিশু জন্মহার অত্যন্ত কম। আর সেউ জন্মহার বাড়াতেই সে দেশের সরকার এখন একগুচ্ছ বিষয় নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে।

যার মধ্যে বিয়েতে নবদম্পতিদের অর্থ প্রদানের কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের সীমাও খানিকটা বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে জাপান সরকার। ‘নিউলিওয়েড সাপোর্ট প্রোগ্রামে’ এখন স্বামী-স্ত্রী উভয়ের বয়স ৩৫ এর কম এবং সম্মিলিত আয় ৪৮ লাখ ডলারের নিচে হলে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ইয়েন পর্যন্ত সহযোগিতা মেলে।

সেই নিয়মেরই রদবদল করা হচ্ছে। বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে টাকার অংকও। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত জাপানের মাত্র ২৮১টি পুরসভা এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। যা সে দেশের ছোট বড় শহর ও গ্রাম মিলিয়ে থাকা পুরসভার মাত্র ১৫ শতাংশ। এখনকার নিয়ম অনুযায়ী, নবদম্পতিদের সহযোগিতার অর্ধেক অর্থ বহন করে পুরসভা।

বাকিটা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে বেশি সংখ্যক নবদম্পতিকে অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা কার্যকর হলে ‘উপহার’ হিসেবে দেওয়া অর্থের দুই-তৃতীয়াংশই কেন্দ্রীয় সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়ের কয়েকটি সূত্র।

জাপানে জন্মহার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিয়েতে বেশি করে নবদম্পতিকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি কার্যকর হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

জাপানে ২০১৫ সালে এক সমীক্ষাতে দেখা যায় ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সি অবিবাহিত পুরুষদের ২৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং অবিবাহিত মহিলাদের ১৭ দশমিক ৮ শতাংশই বিয়ে না করার জন্য অর্থের অভাবকে দায়ী করেছিলেন। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড স্যোশাল সিকিউরিটি রিসার্চ এই সমীক্ষাটি চালায়। আর এরপরেই টাকা দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।