স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুর: ছেলে তাঁর মস্ত মানুষ, সরকারি অফিসার। বৃদ্ধা মা’কে বৃদ্ধাশ্রমে রাখেননি, কিন্তু কোনও যোগাযোগও রাখেননি। এই অবস্থায় স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন অসহায় বৃদ্ধা পূর্ণিমা প্রামাণিক।

৬০ বছর বয়সী পূর্ণিমা দেবী দুর্গাপুরের এবিএল আবাসনের বাসিন্দা। এক বছর আগে তাঁর স্বামী নিমাই প্রামাণিক প্রয়াত হন। তারপর থেকে পূর্ণিমা দেবীর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেনি সৎ ছেলে নির্মাল্য প্রামাণিক।

জানা গিয়েছে, পূর্ণিমাদেবীর স্বামী নিমাইবাবুর দুই মেয়ে ও এক ছেলে। পূর্ণিমাদেবী তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর ছেলে নির্মাল্যবাবু বিয়ের বছরখানেক পর স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতায় চলে আসেন। তার কিছুদিন পর নিমাইবাবু অসুস্থ হয়ে পড়েন। পূর্ণিমাদেবী বলেন, “স্বামীর চিকিৎসা ও মেয়েদের বিয়ে দিতে গিয়ে আমাদের সব সঞ্চয় খরচ হয়ে যায়। তারপর ছেলের কাছে হাত পাতলেও সে এতটুকুও সাহায্য করেনি। বিষয়টি সিনিয়র সিটিজেন্স ট্রাইবুনালে জানিয়েছিলাম। ট্রাইবুনাল ২০১৪ সালে নির্মাল্যকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বাবা-মার ভরণপোষণের জন্য। এরপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে স্বামী মারা যান। তখন বাবার শেষকৃত্য করতে নির্মাল্য দুর্গাপুরে এসেছিল। তারপর আর সে দুর্গাপুরে আসেনি। আমারও আর খোঁজ নেয় না।”

পূর্ণিমা দেবীর অভিযোগ, ”আমায় কোনও রকম আর্থিক সাহায্য করে না সৎ ছেলে। এরকম কঠিন পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।” সৎ ছেলে তাই মাকে দেখেও না আর ভরণপোষণের দায়িত্বও নেয় না। তাই তিনি বুধবার স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক শঙ্খ সাঁতরার কাছে।

পূর্ণিমাদেবীর অভিযোগ, স্বামী মারা যাওয়ার পর গত দু’বছরে ছেলের কাছে অনেকবার আর্থিক সাহায্যের জন্য তিনি আবেদন করেছেন। কিন্তু ছেলে শোনেনি। এখন তিনি চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন। তাই তিনি মহকুমাশাসকের কাছে আত্মহত্যার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

মহকুমাশাসক বলেন, “নির্মাল্য প্রামাণিক একজন সরকারি অফিসার। বিষয়টি তাই তাঁর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া সিনিয়র সিটিজেন্স ট্রাইবুনালও বিষয়টি দেখছে।” নির্মাল্যবাবুর বলেন, “এই বিষয়ে আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও কথা বলব না।”