নয়াদিল্লি: বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশয় ভয়াবহ হয়ে পড়ছে ভারতের দক্ষিণের রাজ্য গুলিতে৷ শুধু কেরলে নয়, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রেও অনবরত বৃষ্টির ফলে নদীর জল বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে সবকটি রাজ্যের জনজীবন৷ সেই সঙ্গে লাফিয়ে বাড়ছে প্রাণ হানির সংখ্যাও।

সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে ইতিমধ্যে এক লক্ষ মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে বন্যায় প্রায় ছয় লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কর্ণাটকের ৮৭৪ টি গ্রাম বন্যা কবলিত, দিশেহারা মানুষজনের অবস্থা এবং বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ কর্ণাটকের বেলাগভি জেলা পরিদর্শনে যান অমিত শাহ।

অন্য দিকে মহারাষ্ট্রেও বন্যার ফলে রাস্তায় ধস নেমেছে৷ নদীর জল ক্রমশ বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে রেল লাইন ডুবে গিয়েছে জলের নীচে৷ যার ফলে বাতিল করা হয়েছে একাধিক ট্রেন৷  এমনকি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে সমস্ত সরকারি অফিস,স্কুল, কলেজ, ব্যাংক৷

আরও পড়ুন : ঈদের আগে স্বস্তি কাশ্মীরে, উঠল ১৪৪ ধারা

তিনটি রাজ্যে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট৷ এছাড়াও কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের তিনটি জেলায় জারি করা আছে কমলা সতর্কতা। অন্যদিকে কর্ণাটকে গত কয়েকদিনের একটানা বৃষ্টির ফলে প্রান হারিয়েছেন ১২ জন এবং ঘরছাড়া হাজারের ওপরে মানুষ৷ এদিকে রবিবার আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে আগামী দুদিন এই তিন রাজ্যে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে৷ ফলে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এই ভারী বর্ষণের অশনিসংকেত ।

পাশাপাশি মহারাষ্ট্রেও বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সব রকম ভাবে সহায়তা করছে দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ২০০৫ ও ২০০৯ সালের পর বিগত বছরগুলিতে এমন ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়নি রাজ্যবাসী৷ যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এই অবস্থা কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে যাওয়ার সবরকম চেষ্টা করা হছে বলে জানা গিয়েছে।