গাজা : রবিবার ভোরবেলা ওরা তখন গভীর ঘুমে। হামলা চালায় ইজরায়েল। গাজা শহরে সকাল হওয়ার আগেই ওই পরিবারে নেমে আসে আরও একটা গভীর রাত। যে শঙ্কায় সুজি এসকুন্তনার মতো পাঁচ ছয় বছরের শিশুদের ঘুম কেড়েছিল। রবিবার ভোরে একটু চোখ লেগে যাওয়ার মধ্যেই আচমকা হামলা। মুহুর্তে লন্ডভন্ড সবকিছু।

মেয়েটি জানতোই না যে ঘুমের মধ্যেই সে হারিয়েছে মা’কে। নিজের জীবনটাও যেত যদি না হঠাৎ কোনও এক সাহায্যকারী দল এসে ওকে উদ্ধার করে নিয়ে যেত। জ্ঞান ছিল না। ওই অবস্থাতেই কখন কে যে ওকে গাজার সবথেকে বড় হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল ও জানে না। এদিন সকালে চোখ খুলল সুজির। দেখল এখনও ও একটা ঘরে। কিন্তু এই ঘর অচেনা। এটা ওর বাড়ি নয়।

ও যে হাসপাতালে সেটা বুঝতেই অনেকখানি সময় চলে যায়। মাঝে যে জীবন মরণের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েছে ও জানেই না। সকালে চোখ খুলতে ওর মনে হয়েছিল ও এখনও ২৪ ঘণ্টা পিছনে। সাত ঘণ্টা ধরে নিজের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের তলায় পড়েছিল সুজি। তারপর ওকে আর ওর বাবাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় সিফা হাসপাতালে। পাশের বেড়েই বাবা। তার ছোঁয়ায় সম্বিত ফেরে ওর। তখনও ও জানে না মা বাকি তিন ভাইবোন কেউ বেঁচে নেই। যুদ্ধ কেড়েছে সবাইকে। রেখেছে বাবা আর ওকে। কারা যে ওকে বাবার পাশে রেখে দিয়ে গিয়েছে সেটাও ও জানে না। শুধু জানে বাবার পাশে শুয়ে আছে সুজি।

প্রসঙ্গত সাতদিন পেরিয়েও যুদ্ধ থামার নাম নেই। অব্যাহত মৃত্যু মিছিল। ইজরায়েলের (Israel) এয়ারস্ট্রাইকে (Air Strike) বারংবার কেঁপে উঠছে গাজা। চোখের সামনে নিমেষের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক বহুতল। রবিবার ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণে গুঁড়িয়ে গিয়েছে তিনটি বাড়ি। নিহত অন্তত ৪২ জন। তাদের মধ্যে ১০ জন শিশুও রয়েছে।

নিখোঁজ ও আহতদের সংখ্যা ৫০ জনেরও বেশি। এদিকে গাজার (Gaza) স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইজরায়েল(Israel) সেনাবাহিনীর হামলায় গাজায় মৃতের সংখ্যা ১৯২ পার করেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৫৮ জন শিশু। তবে ইজরায়েলের তরফে জানানো হয়েছে যে, হামাসের পাল্ট আক্রমণে ১০ জন ইজরায়েলি মারা গিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জন শিশুও রয়েছে।

অন্যদিকে, নৃশংস এই হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রসংঘের (UN) সেক্রেটারি-জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেস (Antonio Guterres) । রবিবার তিনি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলকে অবিলম্বে দুই দেশের মধ্যে ঘটে চলা যুদ্ধের অবসানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “গত সোমবার থেকে ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইনের মধ্যে ঘটে চলা এই নৃশংস ঘটনা পুরোপুরি হতাশাজনক। শীঘ্রই এর অবসান হওয়া জরুরি।” এছাড়াও তিনি রাষ্ট্রসংঘের তরফে দুই দেশের মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই জটিল পরিস্থিতির অবসান ঘটানো জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালনের কথা ঘোষণা করেছেন।

যদিও এই বিষয়ে প্যালেস্টাইনের(Palestine) বিদেশমন্ত্রী(Foreign Minister Riyad al-Malki) রিয়াদ আল-মালকি নিরাপত্তা পরিষদে জানিয়েছেন যে, প্রতিবারই ইজরায়েল যখন বিদেশি নেতাদের তরফে থেকে নিজেদের অধিকারের কথা শুনবে ততবারই তারা ঘুমের মধ্যে একের পর এক প্যালেস্টাইনদের(Palestinians) হত্যা করবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.