প্রতীকি ছবি

পূজা মণ্ডল, কলকাতা : গতবারের চেয়ে এবছর নাম পাঠান যাবে বেশি। কেন্দ্র সরকারের নির্দেশ অনুসারে ৬ জন শিক্ষক নাম পাঠাতে পারবেন রাজ্য থেকে। কজন মনোনীত হবেন সেই নির্দেশিকা থেকে দেখা যাচ্ছে, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাত, কেরল, পশ্চিমবঙ্গ সহ ১৪ টি রাজ্য থেকে ৬ জন করে শিক্ষকের নাম পাঠান যাবে। এবছর দপ্তরের নিজস্ব সাইটে ৬ মে থেকে ১৫ জুনের মধ্যে নাম নথিভুক্ত করণের তারিখ রয়েছে। কিন্তু, এই বিধিতেও অসন্তোষ শিক্ষক মহলে।

শিক্ষা-শিক্ষক-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ” রাজ্য এই নির্দেশিকা জারি করলেও তা নিয়ে অস্বচ্ছতা থেকে যায়। অনলাইনে আবেদনের সুযোগ থাকলেও শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করা হয়। তাতে করে যারা যোগ্য তাঁদের নাম পাঠান হয়ে ওঠে না। আমি নিজেও এই ঘটনায় ভুক্তভোগী। এইভাবেই ফাঁক থেকে যাচ্ছে সঠিক মানুষ বাছতে।”

পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসুও স্বাগত জানিয়েছেন এই সিদ্ধান্তকে। তবে তিনি বলেছেন, “যে পদ্ধতিতে এই নাম পাঠান হয় তা নিয়ে অনেকেরই আপত্তি আছে। এই পুরস্কারের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরই নাম পাঠাতে হয় উদ্যোগী হতে হয়। অন্য কোনও ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ নিতে হয় না। অনেক যোগ্য শিক্ষক এভাবে নাম পাঠানোতে অনিহা প্রকাশ করেন। এবিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ করছি। সরকারকে এই বিষয়ে উদ্যোগী হওয়া দরকার। প্রয়োজনে স্কুলগুলো থেকে যোগ্য শিক্ষকদের একটি তালিকা নিয়ে তা থেকে ইন্টারভিউ নিয়ে পুরস্কারের জন্য নাম পাঠাক সরকার।”

অন্যদিকে, বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডলের কথায়, “নির্বাচনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৬ শিক্ষকের নাম চেয়ে চমক দিতে চাইছে কেন্দ্র।তা খুব একটা সফল হবে না। আমরা চাই দেশে শিক্ষকদের আবেদনের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে দ্বিগুন করা হোক।”

মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের বিদ্যালয় শিক্ষা এবং স্বাক্ষরতা দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই এই পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয় দেশের সেরা শিক্ষকদের। এই পুরস্কার দেওয়া হয় শিক্ষকদের শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য অবদানের। গতবছর সংখ্যাটা ছিল তিন। পরে ওই বছরই এনিয়ে শিক্ষক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় জাতীয় পুরস্কারের জন্য নাম পাঠান হয় ৬ জন স্কুল শিক্ষকের। এবছর থেকে জারি করা নির্দেশিকায় বাংলা থেকে ৬ জনের নাম পাঠান যাবে ওই পুরস্কারের জন্য। কিন্তু তাতেও পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক।

মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে গোটা দেশে জাতীয় পুরস্কারের জন্য ১৫৪ জনের নাম বাছাই করা হবে। মনোনীত শিক্ষকদের চূড়ান্ত পর্যায়ে জুরি বোর্ডের সামনে প্রেজেন্টেশন দিতে হবে। ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি এই পুরস্কার শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন।