স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: ভোটের প্রচারে বেরিয়ে মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে অভিযুক্ত সকলেই উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা। ভোটের প্রচারের জন্যেই তাদের এই রাজ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

তৃণমূলের কর্মীদের হুমকি দিয়ে বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ বলেছিলেন যে উত্তরপ্রদেশ থেকে এক হাজার ছেলে নিয়ে আসবেন। শুধু তাই নয়, ভিন রাজ্যের সেই ছেলেদের উপরে সামর্থের ভিত্তিতেই তৃণমূল কর্মীদের কুকুরের মতো পেটানোর হুমকিও দিয়েছিলেন। যা নিয়ে তিব্র বিতর্ক হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল প্রার্থী ভারতীকে।

কাঁথি তিন নম্বর ব্লকে উত্তর প্রদেশ রথেকে দুষ্কৃতী নিয়ে এসে দলীয় প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করলে এক মহিলাকে শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। পরে মহিলার চিৎকার করলে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্ঠা করে। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। আক্রান্ত মহিলা বিপদে পড়ে চিৎকার শুরু করে দেয়। গ্রামবাসীরা ছুটে এসে যুবকদের হাতে নাতে ধরে ফেলে।

শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে কাঁথির মারিশাদা থানা এলাকার। গ্রামবাসীদের থেকে শ্লীলতাহানির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেতে খুব বেশি সময় নেয়নি পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় ওই ঘটনায় জড়িত আট ব্যক্তিকে। যাদের মধ্যে ছয় জন উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা। ধৃতেরা হল- সুরজ সাগর, রিঙ্কু কুমার, নরেন্দ্র কুমার, ঘনশ্যান, সোনু সাগর, গাডু জ্যোতিন্ময় দাস এবং শিবপ্রসাদ দাস। এদের মধ্যে প্রথম ছয় জন উত্তর প্রদেশের দূর্গানগর থানার বরবারির বাসিন্দা। বাকি দু’জনের বাড়ি যথাক্রমে কাঁথি থানার পশ্চিম কুশবনি এবং দেউলপোতায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরের কাঁথি ৩ ব্লকের ভাজাচাউলির গ্রামপঞ্চায়েতের রঘুনন্দনপুরের গ্রামের ভগবতী প্রধান নামে এক মহিলার বাড়িতে হাজির হয় কয়েকজন যুবক। তারপর মহিলার বাড়িতে বিজেপি পতকা লাগাতে থাকে। মহিলার প্রতিবাদ করলে তার শ্লীলতাহানি করে এবং টাকা দিতে মুখ বন্ধ করার চেষ্ঠা করে যুবকরা বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয় ওই মহিলাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে পালানোর চেষ্ঠা করে। গ্রামবাসীরা ছুটে এলে মহিলাকে উদ্ধার করে এবং যুবকদের আটক করে থানার খবর দেয়।

পুলিশ এসে আটজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং গাড়ি, কয়েক হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। রাতেই ওই মহিলা থানার অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর পুলিশ আটজনকে গ্রেফতার করে। ভোটের কাজে ভিন রাজ্য থেকে ছেলে নিয়ে আসার কথা স্বীকার করে নিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির কাঁথি সংগঠনিক সভাপতি তপন মাইতি বলেন, “যারা ধরা পড়েছে তারা হল ঠিকাদারের লোক। তারা ঠিকার ভিত্তিতে পতকা লাগাচ্ছিল। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে।”