স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল উত্তর ২৪ পরগণার বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের নৈহাটির মামুদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় জখম হয়েছে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচ জন৷ উভয় পক্ষের হামলা ও পাল্টা হামলায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১০টি মোটর বাইক৷ ভাঙচুর করা হয়েছে একটি টাটা সুমো গাড়ি এবং আরও ১৫ টি মোটর বাইক।

তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নৈহাটির তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিকের অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে হামলা চালিয়েছেন বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। তিনি নিজে গুলিও চালিয়েছেন। ওর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা ওখানকার স্থানীয় একটি ক্লাবে ঢুকে হামলা চালিয়েছে৷ ওই ক্লাব ভাঙচুর করেছে। আমাদের স্থানীয় তৃণমূল নেতা হারান ঘোষের বাড়ি ভাঙচুর করেছে। ও এলাকায় যত মস্তানি করবে তত ভোট বাড়বে আমাদের। মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। উনি আগামী ৬ তারিখ সব বুঝতে পারবে।

এদিকে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, ঘটনার সূত্রপাত নৈহাটির মামুদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলিয়াগড় এলাকায়৷ বিজেপির একটি মিটিং শেষ হওয়ার পর কর্মীদের উপর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হামলা করে৷ মামুদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি নেতা পার্থসারথি পাত্র বলেন, ‘‘আমরা দলীয় প্রার্থী অর্জুন সিংকে নিয়ে মিটিং করছিলাম। মিটিং শেষে হঠাৎ আমাদের উপর আক্রমণ করে পার্থ ভৌমিকের ছত্রছায়ায় থাকা দুষ্কৃতীরা। আমাদের তিনটি বাইক আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং একটি চার চাকা গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আমাদের দলের সক্রিয় কর্মী অতিন ভৌমিককে মারধর করা হয়েছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এর পালটা প্রতিরোধও হয়। তৃণমূলের পায়ের তলায় এখন মাটি নেই। ওরা নব্য তৃণমূলীদের নিয়ে দল করছে। নৈহাটির পুরনো যারা ছিল তারা অধিকাংশ মানুষই এখন বিজেপি করছে। এই মামুদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে আমরা অর্জুন সিংকে ১০ হাজার ভোটে জেতাব।’’

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং বলেন, ‘‘ওরা দিনের পর দিন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে৷ নৈহাটি থানার আইসি বীজপুর থানার আইসি, নোয়াপাড়া, জগদ্দল এবং দত্ত পুকুর থানার আইসি সম্পূর্ণ দলদাস হয়ে তৃণমূলের কাজ করছে। আমার দলের কর্মীরা মার খেলে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব। আমি পাশে গিয়ে দাঁড়ালেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘নৈহাটিতে হারান ঘোষ নামে এক তৃণমূল নেতা আছে৷ ওর পোষা গুণ্ডারা আমাদের দলের কর্মীদের মারধর করেছে। বাইক পুড়িয়ে দিয়েছে, আমরা সব নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।’’