স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: রাজ্য সরকারি কর্মীরাই থাকছেন ভোট গণনার দায়িত্বে৷ আর তাঁদের উপরে মাইক্রো অবজারভার হিসেবে থাকছেন ব্যাংক পোষ্ট অফিস সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মী আধিকারিকরা। শুধু সময়ের অপেক্ষা৷ তারপরেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হবে এবারের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রাজনৈতিক বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ভাগ্য ফল নির্ধারণের গণনা কার্য।

দেশের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল বালুরঘাট কেন্দ্র। গেরুয়া শিবির এবারের নির্বাচনে বালুরঘাটকে পাখির চোখ করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলও এই আসনে বিজয় অক্ষুণ্ণ রাখতে মরিয়া হয়ে প্রচার চালিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় একাই এই কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী গতবারের জয়ী অর্পিতা ঘোষের হয়ে গঙ্গারামপুর বালুরঘাট বুনিয়াদপুর ও ইটাহারে নির্বাচনী চার চারটি সভা করে গিয়েছেন।

পাশাপাশি দলের অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ফিরহাদ ববিহাকিম থেকে শুরু করে সুব্রত মুখোপাধ্যায় পূর্ণেন্দু বসু এমনকি অভিনেতা দেবও এসে সভা করেছেন। উলটো দিকে পাখির চোখে লক্ষ্যভেদ সুনিশ্চিত করতে বালুরঘাট রেকর্ড সংখ্যক মানুষের ভিড়ে দলীয় প্রার্থী ডঃ সুকান্ত মজুমদারের হয়ে সভা করে গিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূল বিজেপি সহ এবারের বালুরঘাট কেন্দ্রে প্রার্থী ছিলেন মোট ১৩জন।

তৃতীয় দফায় ২৩ এপ্রিল এই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে শুরু হয় ফলাফল নিয়ে জোর চর্চা। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক কার্যালয় তথা প্রশাসনিক ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গণনা কার্য সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে গণনা কর্মী ও মাইক্রো অবজারভার মিলিয়ে পাঁচশোরও বেশি কর্মী আধিকারিক দায়িত্বে থাকছেন। ইটাহার সহ সাতটি বিধানসভা এলাকার ভোট গণনা হবে বালুরঘাট কলেজেই।

প্রত্যেক বিধানসভার ভিত্তিক দুইটি হলে মোট ২০টি টেবিলে ভোট গণনা হবে। প্রতিটি টেবিলে কাউন্টিং সুপারভাইজার কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ও মাইক্রো অবজারভার সহ মোট তিনজন করে থাকবেন। কেন্দ্রীয় সরকারি বিভাগ ও ব্যাংক এলআইসি’র কর্মী আধিকারিকরা মাইক্রো অবজারভার এবং রাজ্যসরকারী কর্মীরা গণনা করবেন৷ গণনা কক্ষের দরজার বাইরে ও ভিতরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা।

বালুরঘাট কলেজের গেটের বাইরে একশো মিটার দূরত্বে থাকছে প্রথম ব্যারিকেড। তারপর মেইন গেট পেরিয়ে ভিতরে থাকছে তৃতীয় ব্যারিকেড। এদিকে কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬ টায় পর্যবেক্ষক প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্ট্রং রুম খোলা হবে। তারপর গণনা শুরু হবে সকাল ৮টায়৷ প্রথমে হবে পোস্টাল ব্যালটের গণনা। তারপরে ইভিএম-এর ভোট গণনা শুরু হবে।

প্রতিটি রাউন্ডের শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক স্বাক্ষর করবেন। ইভিএম গণনা শেষ হওয়ার পরই ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেল(ভিভিপ্যাট) গণনা করা হবে। গণনা কেন্দ্র এবং স্ট্রং রুমে কেন্দ্রীয় বাহিনী পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনী আধিকারিকরা ছাড়া কেউই মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। কোন রকম ব্যাগ, জলের বোতল ও খাবারও ভিতরে নিয়ে যাওয়া যাবে না বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।