লখনউ: অকাল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত গোটা উত্তরপ্রদেশ রাজ্য। লাগাতার বর্ষণ সঙ্গে যুক্ত আছে বন্যার জল। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফের নতুন করে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে যোগীর রাজ্য। বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ায় নতুন করে নিম্মচাপের সৃষ্টি হয়েছে উত্তরপ্রদেশে৷ যার জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরপ্রদেশ সহ বিহারও৷

সূত্রের খবর, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছে যে, বন্যার জল ঢুকে পড়েছে সংশোধনাগার চত্বরেও৷ জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত বর্ষা এবং বন্যার জেরে বালিয়া জেলার একটি জেলখানায় তিনটি ব্যারাক ভেঙে জল ঢুকে পড়েছে৷ যার জেরে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এখন বিপর্যস্ত অবস্থা জেলের কয়েদিদেরও।

বালিয়ার ওই জেলটিতে বন্দি রয়েছে প্রায় সাড়ে নয়শো জন আসামি। কিন্তু যা পরিস্থিতি তাতে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় পাঁচশো আসামিকে বালিয়া জেল থেকে রাজ্যের অন্য জেলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বালিয়া জেলাশাসক রাম আসরাই। জানা গিয়েছে এই জেলটি গঙ্গা এবং বিহার রাজ্যের সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে অবস্থিত।

আরও পড়ুন : বৃষ্টিবন্দি মালদহ, নিকাশির অভাবে জলের তলায় জেলা

এদিকে অতি বর্ষণের কারণে বালিয়া জেল থেকে পাঁচশো কয়েদিকে স্থানান্তর করার কথা ঘোষণা করা হলেও তাদেরকে আজমগড়ের যে জেলে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে সেখানে মাত্র সাড়ে তিনশো জন কয়েদিদের থাকার মত জায়গা রয়েছে। এই অবস্থায় বন্দিদের নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছে বালিয়া জেল কর্তৃপক্ষ।

বালিয়ার জেলা শাসক জানিয়েছেন, ‘অতিরিক্ত বন্যার কারনে জেলের তিনটি ব্যারাক ভেঙে জল ঢুকে যাচ্ছে৷ প্রথমে বালিয়া থেকে আজমগড়ে সাড়ে নয়শো কয়েদিদের নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও, আজমগড় জেলের যা পরিস্থিতি তাতে ওখানে মাত্র পাঁচশো জনের থাকার মত জায়গা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই পাঁচশো আসামীদের মধ্যে মহিলা কয়েদি রয়েছে পঁয়তাল্লিশ জন৷

টানা চারদিনের বৃষ্টিতে বন্যার জল হুহু করে ঢুকে পড়ছে জেলের বিল্ডিং গুলিতে। যার ফলে বর্তমানে ওই জেলের অবস্থা যে খুব খারাপ এবং যেকোনো সময় বৃষ্টির কারনে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে তা মানছে জেল কর্তৃপক্ষ। বালিয়ার জেলা শাসক রাম আসরাই জানিয়েছেন, জেলের জল সরানোর পাম্প মেশিন না থাকায় সমস্যা বাড়ছে৷

ইতিমধ্যে বন্যায় বিহার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় সাতাশ জন মানুষ মারা গিয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মৃত্যু বাড়ছে পাটনা শহরেও। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে উত্তরপ্রদেশের পূর্বাংশের বিভিন্ন প্রান্তে নব্বই জন সাধারণ মানুষ মারা গিয়েছে। এর মধ্যে এই লাগাতার বর্ষণে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরপ্রদেশের জায়ুনপুর এবং বারানসী জেলা।

প্রবল বৃষ্টিতে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার জুড়ে ব্যাহত রেল পরিষেবাও। জানা গিয়েছে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় বিহার-উত্তরপ্রদেশগামী বিভিন্ন আপ-ডাউন ট্রেনকে ঘুরিয়ে গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে। শুধু তাই নয় বৃষ্টির কারনে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে বহু ট্রেনও।

আরও পড়ুন : পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করল ভারত, বাংলাদেশের বাজারে ব্যাপক বাড়ল দাম

উত্তরপূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক মহেশ গুপ্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআই’কে জানিয়েছেন, সোমবার ভোর ৪.১৫ মিনিট নাগাদ অতি ভারী বর্ষণে উত্তরপ্রদেশের ছাপড়া-বালিয়া রুটের রেললাইনে কাদা জমে যাওয়ায় এই রুটে সিগন্যাল ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। যার কারনে আপাতত বন্ধ রয়েছে এই রুটের ট্রেন পরিষেবা। মহেশ গুপ্তা আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে এই রুটের সাতটি ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে উত্তরপূর্ব রেলের তরফে।

এছাড়াও বাকি ছয়টি ট্রেন ঘুরপথে গন্তব্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে ছাপড়া থেকে ভান্তি এবং মাউ রুটের ট্রেন গুলি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

লাগাতার বর্ষণের মধ্যে আবার বর্ষা নিয়ে ফের অশনি সংকেতের কথা শুনিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আগামী চব্বিশ ঘণ্টাতেও ঝাড়খণ্ড, বিহার সহ উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের পশ্চিম থেকে পূর্ব অংশে ভারী বৃষ্টির হওয়ার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। যার ফলে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এই রাজ্যগুলিতে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারের জন্য সব রকম ভাবে সাহায্য করছে সরকার।