নয়াদিল্লি: “Necessity is the mother of invention”। ইংরাজিতে বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ। প্রয়োজন থাকলে জিনিসের আবিষ্কার হয় এবং তার প্রচলন বহুদিন ব্যাপী হয়। তেমনই প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আবিষ্কৃত বহু জিনিস আজকের সমাজেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আজও সেই সব আবিষ্কার আমরা চুটিয়ে ব্যবহার করি।

সুপারগ্লু: যখন কোনও কিছু খুব তাড়াতাড়ি ও শক্ত করে জোড়ার প্রয়োজন হয় তখন প্রথমেই মনে আসে এর কথা। খুব সহজে এই আঠা জিনিস জুড়ে দেয়। এর উদ্ভব হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। এর আবিষ্কারকের নাম হ্যারি কোভার। ১৯১৯ সালের ৬ মার্চ ডেলাওয়ারের নেওয়ার্কে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনি হবার্ট কলেজ ও কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৪২ সালে তিনি রসায়নে এমএস ডিগ্রি পান। এর ২ বছর পর ১৯৪৪ সালে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি নিউ ইয়র্কের ইস্টম্যান-কোডাক কেমিক্যাল ডিভিশনে কাজ করতে শুরু করেন। তিনি cyanoacrylate নামে কেমিক্য়াল নিয়ে গবেষণার কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা একটি প্লাস্টিক আবিষ্কারের চেষ্টা করছিলেন যা সেনাকে সঠিক গানসাইট দেবে। এটি আবিষ্কার করার সময় বিজ্ঞানীরা এমন একটি পদার্থ আবিষ্কার করে ফেলেন যা অত্যন্ত আঠালো। এরপর এই আবিষ্কারের দিকেই মন দেন তাঁরা।

ব্লাড ব্যাংক: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে রক্ত খুব কম দেওয়া নেওয়া করা হত। চিকিৎসকরাও সেদিকে বড় একটা আমল দিতেন না। কিন্ত রক্তের বিভিন্ন ধরণ আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে চিকিৎসকরা বাধ্যতামূলকভাবে এদিকে নজর দিলেন। মার্কিন সেনার এক চিকিৎসক ব্রিটিশ সেনার সঙ্গে কথা বলে ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নাম ক্যাপ্টেন ওসওয়াল্ড রবার্টসন। ১৯৭১ সালে এই ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এক্ষেত্রে একটি জায়গায় রক্ত জমিয়ে রাখা হত। যুদ্ধে আহত হওয়া সৈনিককে সেই রক্ত দেওয়া হত। ২৮ দিন পর্যন্ত রক্ত বরফের মধ্যে রাখতেন তাঁরা। রক্ত যাতে জমাট বেঁধে না যায় তাই সোডিয়াম সাইট্রেট ব্যবহার করতেন।

পেনিসিলিন: অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানী হওয়ার্ড ফ্লোরে তাঁর টিমের সঙ্গে পেনসিলিনের উদ্ভব করেন। কিন্তু তার আগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আলেকজান্ডার ফ্লেমিং আমি মেডিক্যাল কর্পসের ক্যাপ্টেন ছিলেন। তখন তিনি অনেক সৈনিকের মৃত্যু দেখেছিলেন। সবাই যে যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করেছিল তা নয়। অনেকে সংক্রমণের ফলেও মারা গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তখন অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করা হত। কিন্তু দেখা যায় এতে ভালোর চেয়ে মন্দই হত বেশি। ফ্লেমিং তখন গভীর ক্ষত মধ্যে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে তা নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর কথা গ্রাহ্য হয়নি। কিন্তু হাল ছাড়েননি ফ্লেমিং। পরে তিনি হওয়ার্ড ফ্লোরের সঙ্গে যোগ দেন। ফ্লোরে কয়েকজন বিজ্ঞানীকে নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিলেন। তাঁর টিমেই ছিল এরেনস্ট বরিস চেন। তিনি পরে মেডিসিনের জন্য নোবেল পুরস্কার পান। আর ছিলেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। পেনিসিলিন আবিষ্কারের জন্য তিনি ও ফ্লোরে নোবেল পুরস্কার পান।

স্টেলনেস স্টিল: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ মিলিটারি তাদের বন্দুকের জন্য আরও শক্ত কোনও ধাতু খুঁজছিল যা তাপ ও বন্দুক ছোঁড়ার সময় ঘর্ষণে বিকৃত হবে না। ইংরেজ ধাতুবিদ হ্যারি বেয়ারলে লোহার সঙ্গে ক্রোমিয়াম যোগ করে তখন স্টিল তৈরি করেন। যদিও স্টেলনেস স্টিল বন্দুকের জন্য ব্যবহার করা হত না। বরং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এয়ারক্র্যাফট ইঞ্জিন তৈরি ও চিকিৎসার সরঞ্জাম তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হত।

জিপারস: এর উদ্ভবও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯২৩ সালে। এটি তৈরি করেন গিডেয়ন সান্ডব্যাক। জিপারের প্রথম অর্ডার আসে সেনার মানি বেল্টের জন্য। তখন সৈনিকদের উর্দিতে পকেট থাকত না। দেখা যায় জিপার বোতামের থেকে অনেক বেশি কার্যকরী ও এর ব্যবহারও অনেক সহজ। বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সাধারণ মানুষ রীতিমতো জিপারের প্রতি ফ্যাসিনেটেড হয়ে পড়ে। তারপর থেকে নিত্যদিনের জীবনে এর প্রচলন শুরু হয়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.