নয়াদিল্লি: অর্থনীতির দৃঢতা নিয়ে মোদী সরকারের দাবির পিছনে রয়েছে পূর্ববর্তী কংগ্রেস জমানার সাফল্য৷ দাবি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের। তাঁর কথায়, ‘‘আগের সরকারের তৈরি দৃঢ় ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলির জন্যই তা সম্ভব হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘ভারতের বহু চর্চিত ৫-ট্রিলিয়ন জিডিপি টার্গেট ২০২৪ সালে বাস্তবায়িত হলে তার জন্য অবশ্যই আগের সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে হবে।’’

প্রথম পূর্ণ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বাজেট পেশ করার সময় বলেন দেশের অর্থনীতি ২০২৪ এর মধ্যেই ৫-ট্রিলিয়ন ছুঁয়ে ফেলবে। কিন্ত তা তো আকাশ থেকে পড়ছে না। আগের সরকার তাঁর ভিত্তি স্থাপন করেছেন। বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এও ঘোষণা করেন যে, ২০১৪-এ ভারতীয় অর্থনীতির জিডিপি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। এমনকি বিভিন্ন সভাতেও এই কথার প্রতিধ্বনি শোনা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অন্যান্য বিজেপি নেতাদের মুখেও।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, “যারা কংগ্রেসের ৫৫ বছরের শাসনকালকে সমালোচনা করছেন তাঁরা ভারতের স্বাধীনতা লাভের সময় দেশ কোথায় ছিল এবং বর্তমানে কতদূর অগ্রসর হয়েছে সে ব্যাপারটিও উপেক্ষা করছেন। হ্যাঁ, নিশ্চয়ই অন্যান্যরাও অবদান রেখেছেন, কিন্তু আধুনিক ভারতের ভিত্তি গঠনের সময় তার প্রতিষ্ঠাতারা দৃঢ়ভাবে পরিকল্পিত অর্থনীতিতে বিশ্বাস রেখেছিলেন। আর আজ, সেই পরিকল্পনা কমিশনই ভেঙ্গে গিয়েছে।”

প্রণববাবুর সংযোজন, ‘‘যারা বিগত ৫৫ বছরের কংগ্রেসের শাসনকালকে সমালোচনা করছেন, তাঁরা ভুলে গেছেন যে আমরা কোথা থেকে শুরু করেছিলাম এবং বর্তমানে কোথায় এসে পৌঁছেছি। ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ভারতীয় অর্থনীতি তৈরি করার আগে আমরা ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী ভিত্তি পেয়েছি যা আমরা প্রায় শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম।” ভবিষ্যতে ভারত যদি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছতে পারে তাহলে তাঁর ভিত্তি হিসাবে দেশের পূর্ববর্তী জওহরলাল নেহেরু, মনমোহন সিং এবং নরসিংহ রাওয়ের সরকার সহ অন্যান্য সরকারের গড়া অর্থনীতির ভিতকে অস্বীকার করা সম্ভব নয়।’’

২০১২ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দীর্ঘদিন কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায় অর্থমন্ত্রকের দায়িত্বও সামলেছেন ও একাধিক সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রসঙ্গত, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এর আগে নাগপুরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আরএসএস-এর এক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়ে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলেন। তবে এ যেন এক অন্যপাঠ পড়ালেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ঘুরিয়ে সমালোচনা করলেন মোদী সরকারের অর্থমন্ত্রীর দাবিকে৷