স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পরীক্ষা না দিতে পারার ফরমান পেয়ে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের অন্দরে। জমায়েত করে কন্ট্রোলার নীলাঞ্জন দাশগুপ্তের কাছে নিজেদের দাবিপত্রও পেশ করেছিল তারা। পড়ুয়াদের দাবির সামনে কিছুটা হলেও নরম হল প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফাইনাল ইয়ারের ৫ জন পড়ুয়া পরীক্ষা দেওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে পড়ুয়াদের সূত্রে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র অহন কর্মকার (university’s independent’s consolidation activist) জানান, আমাদের যা বক্তব্য ছিল অর্থাৎ বৈধ মেডিক্যাল সার্টিফিকেট থাকা স্বত্বেও পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হচ্ছে না, সেক্ষেত্রে জমায়েতের পর ফাইনাল ইয়ারের পড়ুয়ারা পরীক্ষায় বসতে পারছে। উত্তরবঙ্গের এক ছাত্রী যে ভোট দিতে যাওয়ার কারণে অ্যাটেনড্যান্স পায়নি সেও পরীক্ষা দিতে পারছে। পরীক্ষা দিতে পারছে কলেজের মহিলা ফুটবল দলের সদস্য, যিনি কলেজের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়ার কারণে কলেজে আসতে না পারায় অ্যাটেনড্যান্স পান নি বলে অসুবিধেয় পড়েছিলেন। তবে পারফর্মিং আর্টস বিভাগের সমস্যা মেটেনি।”

পারফর্মিং আর্টস বিভাগের প্রথম বর্ষের (দ্বিতীয় সেমেস্টার) ছাত্র পূষন দাশগুপ্ত জানান, “সমস্যা মেটেনি। জেনারেল সাবজেক্টগুলিতে পরীক্ষা দিতে পারলেও, অনার্সের সাবজেক্টটিতে পরীক্ষা দিতে পারিনি।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি না থাকায় পরীক্ষার আগে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৩ জন পড়ুয়াকে জানিয়ে দেওয়া হয়, পরীক্ষায় বসতে পারছেন না তাঁরা। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি ছিল, সিবিসিএস ব্যবস্থায় বর্তমানে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি থাকলেই পরীক্ষায় বসা যায়। তাহলে তাদের ক্ষেত্রে নিয়মটা অন্য হবে কেন! এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা কোনও জবাব দেননি বলেও অভিযোগ ছিল পড়ুয়াদের। তাই গত ২২ মে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জমায়েত হয়ে আন্দোলনে রাস্তা ধরার দিকেই এগোনোর বিষয়ে আলচনা করেন প্রেসিডেন্সির পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অফ এক্সামিনার নীলাঞ্জন দাশগুপ্তের সাথে দেখা করে ওই দিনই তারা স্মারকলিপি দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভেন সেমেস্টারের (দ্বিতীয়, চতুর্থ এবং ষষ্ঠ সেমেস্তার) পরীক্ষা শুরু হয় আগামী ২৭ মে। পরীক্ষা শেষ হচ্ছে আগামী ৩ জুন। ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় বসতে না পারার নামের তালিকা জানান হয় গত ১৬ মে। প্রত্যেক বর্ষের পড়ুয়া মিলিয়ে ১০৩ জন পড়ুয়া রয়েছেন ওই তালিকায়। তাদের দাবি, বর্তমানে সিবিসিএস(চয়েস বেস ক্রেডিট সিস্টেম) ব্যবস্থায় ৬০% উপস্থিতি থাকলেই পরীক্ষায় বসা যায়।

যদি ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের তেমন চুক্তি নাও থেকে থাকে (যেহেতু উচ্চ কর্তৃপক্ষ জানাতে চায় নি) তবে কেন তা কার্যকর করবেন না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ! অন্যদিকে ৬০% নম্বর থাকলে মেডিকেল সার্টিফিকেট ইস্যু করা যায়, কিন্তু সেক্ষেত্রেও বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীদের মেডিকেল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হয় নি বলেও অভিযোগ করেন পড়ুয়ারা। কন্ট্রোলার নীলাঞ্জনবাবুর কাছে গেলেও মেলেনি সদুত্তর বলেও অভিযোগ করেছিলেন পড়ুয়ারা।

শনিবার এ বিষয়ে কন্ট্রোলার নীলাঞ্জনবাবুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV