হিমালয়ের কোলে অবস্থিত বদ্রীনাথ মন্দির। ছ’মাস বন্ধ থাকার পর ১০মে খুলে দেওয়া হয় সেই মন্দির। আগামী ছ’মাস এই মন্দির দর্শন করতে পারবেন ভক্তরা। হাজার হাজার মানুষ যাবেন প্রত্যেকদিন।

ভারতের উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ শহরে অবস্থিত এই মন্দিরটিতে বিষ্ণু দেবতার পূজা করা হয়৷ তিনিই এখানে বদ্রীনাথ হিসেবে পরিচিত। উত্তরাখণ্ডের চারধামের মধ্যে অন্যতম এটি। বাকি তিনটি হল কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনেত্রী।

শীতকালে এই মন্দিরটি ভক্তদের দর্শনের জন্য একেবারেই বন্ধ থাকে৷ ১০মে থেকে এই মন্দিরটি ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল৷

কিন্তু কেন এত বিখ্যাত এই মন্দির?কথিত আছে, এই মন্দিরটি খুবই জাগ্রত৷ দেশ বিদেশ থেকে ভক্তরা এই মন্দিরে আসেন মনষ্কামনা পূরণের উদ্দেশে৷ মে মাস থেকে নভেম্বর অবধি খোলা থাকে এই মন্দির৷ বদ্রীনাথ ভারতের জনপ্রিয় তীর্থগুলির মধ্যে এটি একটি৷ প্রাচীন হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বিষ্ণুপুরাণে এই মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে৷

১) অলকানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত বদ্রীনাথে বসেই ঋষি বেদব্যাস মহাভারত মহাকাব্যটি লিখেছিলেন৷ প্রায় ১০ লক্ষ শব্দের এই মহাকাব্যটি হিন্দুদের প্রধান মহাকাব্য৷ এটিই বিশ্বের সবথেকে বড় মহাকাব্য৷ তাই বদ্রীনাথে গেলে আজও শোনা যাবে মহাভারতের নানা গল্প, বিভিন্ন ঘটনা যা বদ্রীনাথেই ঘটেছিল বলে কথিত আছে। দেখা যাবে পাণ্দবদের স্বর্গে যাওয়ার রাস্তাও।

২) বদ্রীনাথে শিব ব্রহ্মার মুন্ডচ্ছেদ করার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করেন৷ আর সেই প্রায়শ্চিত্ত করার জন্যই তিনি এই মন্দিরটি তৈরি করার জন্য উদ্যোগ নেন৷ শিব পাঁচটির মধ্যে একটি মুণ্ডচ্ছেদ করার জন্যই এই মন্দিরটি তৈরি করেন৷ ব্রহ্মা কপাল নামেও তাই পরিচিত এই মন্দিরটি৷

৩) মন্দিরটি তিনটি পৃথক অংশে বিভক্ত৷ গর্ভগৃহ, দর্শন মণ্ডপ ও সভামণ্ডপ নামে পরিচিত৷ এই মন্দিরটির মাথায় সোনার রংয়ের একটি গম্বুজ রয়েছে৷ মন্দিরের সম্মুখ ভাগটি পাথরের তৈরি৷ চারপাশ পাহাড়ে ঘেরা। মাঝে উপত্যকায় এই মন্দির।

৪) পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, বিষ্ণু দেবতা এখানে বদ্রীনাথ রূপে পূজিত হন৷ ত্রেতা যুগেই একমাত্র মুনি ঋষিদের কাছে এই মন্দিরটির আসল চেহারা প্রকাশ্যে এসেছিল৷ তারপর থেকেই এই পুজো হয়ে আসছে।

৫) এই জায়গাটির নাম ছিল তপোভূমি ৷ এই জায়গাটিতেই বহু বছর ধরে ধ্যান করেছিলেন বিষ্ণু দেবতা৷ আর সেই সময়ই তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী তাঁকে ছায়া দেওয়ার জন্য গাছ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে তার উপরে৷ স্ত্রী’র উপর খুশি হয়ে এরপরই ওই জায়গাটির নাম দেন বিষ্ণু বদ্রীনাথ৷