নয়াদিল্লি: নভেম্বরের মাস এবার শেষের দিকে অথচ এখনও পর্যন্ত অগস্ট-সেপ্টেম্বরের জিএসটি ক্ষতিপূরণ কেন্দ্রের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি৷এরফলে যে রাজ্যেগুলির মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে দেখা গেল৷বিরোধীদের শাসিত রাজ্যগুলি এবার অভিযোগ তুলেছে, এভাবে চললে তাদের রাজ্যের রাজকোষ থেকে খরচ চালানোটাই ক্রমশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

শুধু তাই নয় এই পরিস্থতিতে কার্যত নজিরবিহীন ভাবে পাঁচ রাজ্যের অর্থমন্ত্রীরা একেবারে বিবৃতি জারি করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই পাঁচ রাজ্য হল- পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, কেরল, পঞ্জাব এবং রাজস্থান৷ এই রাজ্যগুলির অর্থমন্ত্রীরা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে বিষয়টি ব্যক্তিগত ভাবে নজর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তাঁরা চান কেন্দ্র যেন অবিলম্বে ক্ষতিপূরণের টাকা মিটিয়ে দেয়।

এমনিতেই অর্থনীতির বেহাল দশা৷ফলে বাজারে কেনাকাটা কমে যাওয়ায় ইদানিং জিএসটি থেকে আয় কিছুতেই সরকারের প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছতে পারছে না। পাশাপাশি জিএসটির সেস বাবদ আয়ও কমেছে। সেস বাবদ আয় থেকেই সাধারণত রাজ্যগুলির রাজস্ব লোকসান মিটিয়ে দিয়ে থাকে কেন্দ্র। কিন্তু সেই সেস বাবদ আয় কমে যাওয়ার ফলে এবারে অগস্ট-সেপ্টেম্বরের ক্ষতিপূরণটাও কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত রাজ্যগুলিকে দিয়ে উঠতে পারেনি। যেটা অক্টোবর মাসেই সাধারণত দিয়ে দেওয়ার কথা।

এহেন পরিস্থিতিতে দিল্লিতে পাঁচ বিরোধী শাসিত এই রাজ্যেগুলির অর্থমন্ত্রীরা বিবৃতি জারি করে জানিয়েছেন, এক মাস কেটে গেলেও এখনও দেরির কারণ দেখিতে কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি। ফলে রাজ্যের কোষাগারে ক্রমশ চাপ বাড়ছে। কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যেই রিজার্ভ ব্যাংকের কাছ থেকে ধার অথবা ওভারড্রাফট নিয়েছে৷ যদিও এনিয়ে এখনও পর্যন্ত অর্থমন্ত্রক কোনও মন্তব্য করেনি৷

নিজেদের কঠিন পরিস্থিতি বোঝাতে পাঁচ রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের যুক্তি হল- রাজ্যের রাজস্ব আয়ের ৬০ শতাংশই জিএসটি থেকে হয়ে থাকে।সেখানে বহু রাজ্যে আবার জিএসটি আয় ৫০% পর্যন্ত কমে গিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের বাজেট চরম চাপের মুখে পড়তে পারে। পাশপাশি অর্থমন্ত্রীরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, জিএসটি শুরুর সময় রাজ্যেগুলিকে এটাই শর্ত দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় না হলে রাজ্যকে কেন্দ্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুষিয়ে দেবে৷