সুভীক কুন্ডু, কলকাতা: বাঙালির বড়ো ম্যাচে দাপট ইস্টবেঙ্গলের৷ আই লিগে জো়ড়া ডার্বি জিতল ইস্টবেঙ্গল৷ শেষবার ২০০৩-০৪ মরশুমে জাতীয় লিগের সময়  জোড়া ডার্বি জিতেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড৷ সেই ডব্বলের পর ১৫ বছর কাটিয়ে ফের ডব্বল জিতল মশাল ব্রিগেড৷  আসুন দেখে নেওয়া যাক ডার্বির পাঁচ দিক-

১) খালিদের ডার্বি ভাগ্য- মিয়ার ডার্বি ভাগ্যে সত্যিই কি এবার তালাচাবি পড়ল৷ বড় ম্যাচে জিততে পারেন না খালিদ! ময়দানে এমন দুর্নাম রয়েছে৷ মরশুমের শেষ ডার্বিতেইও সেই দুর্নাম ঘুচল না৷ দুই প্রধানের হয়ে মোট চারটি ডার্বি খেলিয়েছেন খালিদ৷ তিনটি ইস্টবেঙ্গলের কোচ হিসেবে ও একটি মোহনবাগানের হেডস্যার হিসেবে৷ রবি সন্ধ্যার ম্যাচ নিয়ে যার তিনটে হার খালিদের৷ এক ম্যাচে ড্র করেছিল খালিদের ইস্টবেঙ্গল৷

আরও পড়ুন- জোড়া গোলে ফিরতি ডার্বি জয় লাল-হলুদের

ছবি- মিতুল দাস

২) ভাঙল সনি’র মিথ- ‘সনি খেললে ডার্বি হারে না মোহনবাগান৷ সেই মিথ এখন ভেঙে চুরমার৷ সনি এদিন চেষ্টা করলেন অনেক, কিন্তু তাঁর পায়ে গোল আসেনি৷ এর আগে হাইতিয়ান যেকটা ডার্বি খেলেছেন বাগানকে হারের মুখ দেখতে হয়নি৷ এদিন অবশ্য উল্টোপূরাণ! সনি খেললেন তবু জয় অধরা বাগানে৷

দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে গোলের দরজা খুলতে না পেরে হতাশায় বিপক্ষের ফুটবলারকে ফাউল করে হলুদ কার্ডও দেখলেন৷ বাগান কোচ খালিদও মেনে নিলেন, সনি চেষ্টা করেছেন কিন্তু শেষটা আমরা পারিনি৷

আরও পড়ুন- নাদাল ঝড় থামিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জকোভিচের

৩) ‘জাস্টিন শো!- জাস্টিন বিবার! ময়দানি ফ্যানেরা তাঁকে এই নামে ডাকতেই পারে৷ বিবার যেমন তাঁর গানে মোহিত করেন, এই জাস্টিন তেমন বল পায়ে প্রতিদিন হৃদয় কাড়ছেন৷ মরশুমের দুই ডার্বিতে দুটি গোল করে ফেললেন লাল-হলুদ স্ট্রাইকার৷ লিগের ফিরতি ডার্বিতে যেন প্রথম ডার্বির নিজেকে ছাপিয়ে গেলেন জবি৷ লাল-হলুদ সমর্থকরা দ্বিতীয় ডার্বির তাই নাম দিয়েছেন, ‘জাস্টিন শো!’

ছবি- মিতুল দাস

৩৫ মিনিটে সান্তোসকে দিয়ে প্রথম গোলটা করালেন। আর ৭৫ মিনিটে কর্নার থেকে মাথা ঠেকিয়ে বাগানের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিলেন৷ প্রথম ডার্বিতে গোল করলেও ম্যাচের সেরা হওয়া হয়নি৷ এদিন সেই আক্ষেপও মিটল বিজয়নের রাজ্যের ফুটবলারের৷ লিগে মোট আট গোল দিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে তিন নম্বরে নামটা এখন জবির৷ সেই সঙ্গে গোল করিয়েছেন ৪টি৷ জবির আগে লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে  রয়েছেন শুধু প্লাজা(১৫ গোল) ও পেদ্রো মানজি(১৩ গোল)৷

৪) কোলাডো: শেষ ডার্বিতে অভিষেক হয়েছিল৷ লাল-হলুদ জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই চোখ কেড়েছিলেন৷ আর ময়দানি ইনিংসের দ্বিতীয় ডার্বিতেই কামাল করলেন৷ ৩৫ মিনিটে জবির পাস থেকে শিল্টনকে পরাস্ত করে মোহনবাগানের জালে ঠিকানা লেখা গোল৷ উল্লাসে যুবভারতী তখন লাল-হলুদময়৷ জবির ম্যাচ সেরার দিনে কোলাডোর মতো তরুণ স্প্যানিশার্ডের খেলা ভুললে চলবে না৷ ক্রমেই লাল-হলুদের তুরুপের তাশ হয়ে উঠছেন তরুণ তুর্কি৷

আরও পড়ুন- পাঁচ গোলে পঞ্চম রাউন্ডে ম্যান সিটি

৫) পর্দে হ্যায় পর্দা- লিগের প্রথম ডার্বির ২৪ ঘন্টা আগে ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’ সিনেমার এই গানকেই মনে করিয়ে দিয়েছিলেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ আলেজান্দ্রো৷ সেবার কালো কাপড়ের আড়ালে চলেছিল ডার্বির চূড়ান্ত প্রস্তুতি৷ আর এবার প্র্যাকটিস ভেনুটাই পাল্টে ফেলেন কোচ৷

যুবভারতী ছেড়ে কড়া নিরাপত্তায় সাইয়ের মাঠে ছিল জনিদের প্রস্তুতি৷ ফ্যানেদের ভিড় এড়াতে লুকোচুরির প্রয়োজন ছিল, ডার্বির আগে সোজা কথা সোজা ভাবে স্বীকারও করে নিয়েছিলেন৷ সেট পিসগুলো খোলসা না করার জন্য এমন লুকোচুরি বলে জানান আলেজান্দ্রো৷ ম্যাচে কর্ণার থেকে মাথা ঠেকিয়ে জবির ‘ছোবল’ গোলটাই বলে দিচ্ছে সবার চোখের আড়ালে অস্ত্রে শানটা সত্যিই দারুণ দিয়েছেন কোচ৷

ম্যাচ শেষে আলেজান্দ্রো তো বলেই গেলেন, ‘বন্ধ দরজার আড়ালে যা প্রস্ততি করেছিলাম, এদিন মাঠে সব ফলে গিয়েছে৷’