নয়াদিল্লি: আগামী পাঁচ বছরে সংখ্যালঘুদের জন্য মোদী সরকারের বড়সড় পরিকল্পনা রয়েছে। মঙ্গলবারই সেই পরিকল্পনার কথা জানালেন সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভি।

তিনি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। দেওয়া হবে প্রি-ম্যাট্রিক, পোস্ট-ম্যাট্রিক সহ একাধিক স্কলারশিপ। যে পাঁচ কোটি সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে এই সুযোগ দেওয়া হবে, তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ ছাত্রী বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য দেওয়া হবে ১০ লক্ষেরও বেশি ‘বেগম হজরত মহল গার্লস স্কলারশিপ।’

তিনি আরও জানিয়েছেন যে দেশ জুড়ে ‘পড়ো-বাড়ো’ নামে এক বিশেষ ক্যাম্পেন হবে। বিশেষত সংখ্যালঘু পরিবারের মেয়েদের পড়াশোনায় উৎসাহ যোগানোর জন্য সেই ক্যাম্পেন করা হবে। বিভিন্ন জায়গায় আর্থ-সামাজিক সমস্যার জন্য অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের স্কুলে পাঠানো হয় না। সেই পরিস্থিতি যাতে বন্ধ হয়, তার জন্যই মোদী সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা। প্রথম পর্যায়ে দেশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৬০টো জেলায় ক্যাম্পেন শুরু করা হবে।

শুধুমাত্র স্কলারশিপ নয়, দেওয়া হবে চাকরির পরীক্ষার পাঠও। ব্যাংক, স্টাফ সিলেকশন, রেল কিংবা যে কোনও সরকারি চাকরির জন্য বিনামূল্যে কোচিং দেওয়া হবে ছাত্রছাত্রীদের। নকভি জানান, এই পাঠ শুধু মুসলিম নয়, ক্রিশ্চান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ কিংবা পার্শি- যে কোনও ধর্মেরই দরিদ্র পরিবারের জন্য প্রযোজ্য।

যেসব সংখ্যালঘু ছাত্রী স্কুলছুট, তাদেরও ফিরিয়ে আনা হবে শিক্ষার মূল স্রোতে। স্কুলে নতুন করে ভর্তি না হলেও, তারা যাতে শিক্ষার সঙ্গে আবার যুক্ত হতে পারে, সেই ব্যবস্থাই করবে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের ‘ব্রিজ কোর্সে’র মাধ্যমে যুক্ত করা হবে।

মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্যও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। হিন্দি, ইংরেজি, অঙ্ক, বিজ্ঞান, কম্পিউটার বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং দেওয়া হবে। যাতে মাদ্রাসাতে মেনস্ট্রিম পড়াশোনা করানো যায়। এইভাবেই আগামী পাঁচ বছর সংখ্যালঘুদের স্বার্থে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছে মোদী সরকার।