ফরিদাবাদ: গোমাংস বহন করা হচ্ছে, এই সন্দেহে পাঁচজনকে বেধড়ক মারধর করা হল৷ ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে। প্রহৃতদের মধ্যে আজ়াদ নামে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শুক্রবার আজ়াদ তার অটো রিকশায় মাংস নিয়ে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন সোনু নামে এক পরিচিত ব্যক্তি ৷ বাসাদি গ্রামের জনা ছয়েক বাসিন্দা অটো রিকশাটি থামায়। আজ়াদের বিরুদ্ধে গোরুর মাংস পাচারের অভিযোগ তোলে তারা৷ গোটা ঘটনার প্রতিবাদ করলেও, কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ আজ়াদের৷

গোমাংস নিয়ে যাওয়ার সন্দেহে অটোচালক সহ পাঁচ জনকে মারধর করে ওই স্বঘোষিত গোরক্ষকদের দল। তাদের ঘিরে ধরে আরও ৪০ জন ব্যক্তি৷ কোনওক্রমে বাড়িতে খবর দেয় আজাদ৷ ঘটনাস্থলে তাঁর আত্মীয়রা পৌঁছলে, তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ৷ এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, গোরক্ষকরা ‘জয় হনুমান’ বলে চিত্কার করছে, আর অটোচালককে মাটিতে ফেলে মারধর করছে। ক্রমাগত মারধরের ফলে আজাদ অচৈতন্য হয়ে পড়ে৷ তখনও সেখান থেকে যায়নি গোরক্ষকরা৷ আজাদের অভিযোগ, জ্ঞান ফেরার পর আজাদকে জয় হনুমান, জয় গো-মাতা বলে শ্লোগান দিতে বলা হয়৷

এই ঘটনায় নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, গোরক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের না করে, আক্রান্ত ওই পাঁচ জনের বিরুদ্ধেই গোমাংস পাচারের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে হরিয়ানা পুলিশ। পরে অবশ্য সেটি মোষের মাংস প্রমাণিত হওয়ায়, মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে৷ হরিয়ানার বিজেপি নেতা রমন মালিক এ বিষয় জানান, যদি কোনও ব্যক্তি গোমাংস পাচারে ধরা পড়ে, তা হলে সেটা আইনি বিষয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মনোহরলাল খট্টরের সরকারকে আক্রমণ করে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র সঞ্জয় ঝা-র অভিযোগ, হরিয়ানায় আইনের অনুশাসনে ব্যর্থ বিজেপি সরকার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার বার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও স্বঘোষিত গোরক্ষকদের তাণ্ডব যে একটুও কমেনি শনিবারই তার একটা দৃষ্টান্ত দেখা গেল ফরিদাবাদে।