প্রতীকী ছবি

আগরতলা: লোকসভা নির্বাচনের মুখে সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার পাঁচ বাংলাদেশি মহিলা। শনিবার তাদের উত্তর ত্রিপুরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত পাঁচ মহিলা বাংলাদেশের কক্স বাজার এলাকা থেকে আসছিল। তাদের গন্তব্য ছিল উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্য অসম। ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে তারা অসমের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

এই বিষয়ে উত্তর ত্রিপুরার পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তী বলেছেন, “শনিবার আমরা পাঁচ জন বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার করেছি। ওরা সকলেই বাংলাদেশের কএক্স বাজার এলাকা থেকে আসছিল বলে জেরায় জানিয়েছে। অসমের করিমগঞ্জ তাদের গন্তব্য ছিল। কিন্তু ত্রিপুরাতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়।” ধৃতদের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিকত্ব আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভানুপদবাবু।

গত কয়েক বছর ধরে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে বসবাস করতে শুরু করেছে। রোহিঙ্গাদের সবথেকে বড় শরণার্থী শিবির আছে বাংলাদেশের কক্স বাজারে। ধৃতেরা রোহিঙ্গা কিনা সেই বিষয়ে কিছু বলেননি ভানুপদবাবু।

সপ্তদশ লোকসভা নিরব্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ সহ সমগ্র উত্তর পুর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান ইসযু হচ্ছে নাগরিক পঞ্জি। যা নিয়ে বাংলার মাটিতে নিত্যদিন তৃণমূল এবং বিজেপি নেতারা একেওপরকে আক্রমন করে চলেছেন। ক্ষমতায় ফিরলে পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি বা নাগরিক পঞ্জি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে বিজেপি নেতারা। অন্যদিকে বাংলায় কিছুতেও এনআরসি করা হবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা।

গত বছরে অসমের নাগরিক পঞ্জির তালিকা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। যার রেশ ছড়িয়েছিল সমগ্র দেশে। আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও যার প্রভাব পরেছিল। নাগরিক পঞ্জির তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়িয়েছিল তৃণমূল। একটি প্রতিনিধি দল অসমে পাঠিয়েছিলেন নেত্রী মমতা। সেই প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিমানবন্দরের যেতে দেওয়া হয়নি। যা নিয়েও অনেক বিতর্ক হয়।

ফাইল ছবি

সেই এনআরসি-র উত্তাপ ছড়িয়েছে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনেও। এরই মাঝে অবৈধ বাংলাদেশিদের গ্রেফতারের ঘটনা সেই বিষয়টিকেই ফের খুঁচিয়ে তুলেছে। যা আরও প্রাসঙ্গিক হয়েছে ধৃতদের গন্তব্যস্থল নিয়ে। কারন ধৃতেরা সকলেই অসমে যাচ্ছিল বলে জেরায় জানিয়েছে।