নয়াদিল্লি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। সেনা নামানোর কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা নামানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। বুধবার সকালে তিনি ট্যুইটারে লিখেছেন, যে এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে তিনি আর্জি জানাবেন। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসুক, এটাই চাইছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সারা রাত ধরে পুলিশ সহ অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখেছেন তিনি। পরিস্থিতি যে আশঙ্কার, সেকথাও উল্লেখ করেছেন কেজরিওয়াল। তাঁর কথায়, ‘পুলিশ সবরকম চেষ্টা সত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।’ তাই সেনা নামানোর কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি, অন্যান্য জায়গাতেও কার্ফু জারি করার কথা বলেছেন তিনি।

জানা যাচ্ছে, দিল্লিতে ৪৫ কোম্পানি প্যারা মিলিটারি ফোর্স নামানো হল। যার মধ্যে রয়েছে ইন্দো-তিবেতিয়ান পুলিশ ফোর্স, বিএফএফ এবং সিআরপিএফও রয়েছে। এর আগে ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয়বাহিনী মোতায়েন রয়েছে দিল্লিতে। মঙ্গলবারই ৩৫ কোম্পানি ফোর্স নামানো হয়েছিল। দিল্লির মৌজপুর, জাফরাবাদ, চাঁদবাগ, কারাওয়াল নগরে কার্ফু জারি রয়েছে প্রশাসনের৷ মূলত স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে এই বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।

আজ বুধবার সকাল থেকে দিল্লির কিছু কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে। হাসপাতালের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ঘটনায়। আহত প্রায় ২০০। বেশির ভাগেরই গুলিতে মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধেয় নতুন করে উত্তর-পূর্ব দিল্লির একাধিক এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে৷ চাঁদবাগে সিএএ ও এনআরসির প্রতিবাদে পথে নামেন মানুষ৷ অনেককে লোহার রড, লাঠি নিয়েও দাপাদাপি করতে দেখা যায়৷ উল্টোদিকে, আন্দোলন দমনের নামেও কয়েকশো লোক জড়ো হয় এলাকায়৷ মুহূর্তে সংঘর্ষ বেঁধে যায় দু’পক্ষের মধ্যে৷ এরই মধ্যে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েও বিক্ষোভ শুরু করে কয়েকজন৷ পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গিয়ে বিক্ষোভ তুলে দেয়৷

দিল্লিবাসীকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷ রাজধানীর পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলেছেন কেজরিওয়াল৷ দিল্লির যে এলাকাগুলিতে অশান্তি ছড়িয়েছে সেই এলাকার বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷ এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সচেষ্ট হতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বাইরে থেকে কেউ ঢুকে যাতে দিল্লির পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে না পারে সেব্যাপারে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন কেজরিওয়াল৷