নয়াদিল্লি: অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল টেলিকম সংস্থাগুলি। গত কয়েকদিন ধরেই ভোডাফোন, এয়ারটেলের মত সংস্থাগুলির আর্থিক দুরবস্থার কথা শিরোনামে। এমনকি দেশ ছাড়ার মত পরিস্থিতি হয়েছে ভোডাফোনের ভোডাফোন, এয়ারটেল, জিও- তিন সংস্থাই মাশুল বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে দিয়েছে।

এই অবস্থায় টেলিকম সংস্থাগুলিকে স্বস্তি দিতে স্পেকট্রামের মূল্য দু’বছরের জন্য মকুব করার অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বলা হয়েছে, ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবর্ষের মূল্য দেরীতে শোধ করার পদক্ষেপে ভারতী এয়ারটেল ভোটাফোন-আইডিয়া এবং রিলায়েন্স জিও ৪২,০০০ কোটি টাকার ছাড় পাবে। বুধবার এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

চরম লোকসানের মুখে ভোডাফোন-আইডিয়া। ভারত ছাড়তে হতে পারে এমন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কোটি কোটি টাকা লোকসানের বোঝা রয়েছে জনপ্রিয় এই টেলিকম সংস্থার ঘাড়ে।

আর এই বোঝা থেকে মুক্তি পেতে সার্ভিস রেট বাড়তে চলেছে ভোডাফোন। সোমবারই সংস্থার তরফে একথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১ ডিসেম্বর থেকে সেই রেট বাড়তে চলেছে।

এদিন ভোডাফোন-আইডিয়া-র দেওয়া এক বিবৃতিতে এদিন বলা হয়েছে, ‘গ্রাহকরা যাতে বিশ্বমানের পরিষেবা পায়, তার জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ট্যারিফ বাড়ানো হবে।’ তবে ঠিক কতটা রেট বাড়ানো হবে, সেবিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি এই সংস্থা।

ভারতের ভোডাফোনের ভবিষ্যত যে ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে, তা অনেকেরই জানা। তবে বৃহস্পতিবার সামনে এল আরও ভয় পাওয়ার মত একটা সংখ্যা। গত তিন আসে ভোডাফোনের যে ক্ষতি হয়েছে, তা সত্যিই চোখ কপালে তুলে দেবে।

সম্প্রতি, একটি রিপোর্টে জানা যায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্ৱরে ভোডাফোনের লোকসান হয়েছে ৫০,৯২২ কোটি টাকা। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম তিন মাসের হিসেবে ৪,৮৭৪ কোটি টাকা লোকসানের মুখ দেখেছিল এই টেলিকম সংস্থাটি। ত্রৈমাসিকের হিসেবে এই প্রথম কোনও ভারতীয় সংস্থার এত টাকার লোকসান হয়েছে।

ভারতের মাটিতে পরিষেবা থেকে আয় ক্রমশ কমছে ভোডাফোন আইডিয়ার। গত বছর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে তাদের রাজস্ব বাবদ আয় হয়েছিল ১১,২০ কোটি। এই বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ভোডাফোন আইডিয়ার আয় কমে ঠেকেছে ১০,৮৪৪ কোটিতে। বিশেষত, কেন্দ্রের ধার্য ‘অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভেনিউ’ পদ্ধতি এয়ারটেল. ভোডাফোন-আইডিয়ার মতো ধুঁকতে থাকা টেলিকম সংস্থাগুলির নাভিঃশ্বাস তুলে দিয়েছে।

অন্যদিকে, ভোডাফোনের মত ঋণের বোঝা আছে এয়ারটেলের ঘাড়েও। সম্প্রতি জানা গিয়েছে বিপুল টাকা লোকসানও হয়েছে এই সংস্থার। এদিন সংস্থার তরফ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এয়ারটেল ডিসেম্বর থেকে ট্যারিফ বাড়াবে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে এয়ারটেলের লোকসান হয়েছে ২৩,০৪৫ কোটি টাকা। অথচ এই বছরের শুরুর দিকে তাদের ১১৮ কোটি টাকা লাভ হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত হিসেবে ভারতে মোবাইল পরিষেবা থেকে এয়ারটেলের আয় হয়েছিল ১০,৭২৪ কোটি টাকা। ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে তা বেড়ে হয় ১০,৮১১ কোটি। একইভাবে ওই তিন মাসের ব্যবধানে সংস্থার গ্রাহক সংখ্যা ২৭৬.৮১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে হয়েছে ২৭৯.৪৩ মিলিয়ন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিকতম নির্দেশ অনুসারে লাইসেন্স ফি বাবদ এই ত্রৈমাসিকে মূল, সুদ এবং জরিমানা মিলিয়ে মোট ২৮,৪৫০ কোটি অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। আর তার জন্যই এই বিপুল ক্ষতি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকার টেলিকম সংস্থাগুলির কাছ থেকে সুদ ও জরিমানা–সহ মোট ৯২,৬৪১ কোটি টাকা পাবে। এর মধ্যে লাইসেন্স ফি ও স্পেকট্রাম ইউসেজ চার্জ বাবদ পাওনা ২৩,১৮৯ কোটি টাকা। এর উপর সুদ ৪১,৬৫০ কোটি টাকা। এছাড়া জরিমানা রয়েছে ১০,৯২৩ কোটি টাকা এবং জরিমানার উপর সুদ ধার্য হয়েছে ১৬,৮৭৮ কোটি টাকা।

এই রায়ের ফলে এয়ারটেলকে ২১,৬৮২ কোটি টাকা এবং ভোডাফোন–আইডিয়াকে ২৮,৩০৮ কোটি টাকা কেন্দ্রকে দিতে হবে। সেই তুলনায় টেলিকম ব্যবসায় নতুন আসা রিলায়েন্স জিওকে মাত্র ১৩ কোটি টাকা দিতে হবে৷

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও