মুম্বই: যদি এভাবে ২১ দিন ধরে লকডাউন চলে তাহলে ৮০% উৎপাদন ক্ষতি হবে। যার ফলে দেশের অর্থনীতি প্রতিদিন ধাক্কা খাবে ৩৫০০০-৪০০০০ কোটি টাকা। যারফলে অন্য অর্থে পুঞ্জিভূত সঞ্চয় হবে ৬.৩-৭ লক্ষ কোটি টাকা। এমনটাই অনুমান করছে মূল্যায়ন সংস্থা কেয়ার রেটিংস।

এই যা হিসেব করা হয়েছে ‌ কুড়ি সালের ‌‌‌‌অর্থবর্ষকে ভিত্তিতে প্রকৃত জি ডি পি ১৪০-১৫০ লক্ষ কোটি টাকা ধরে। ‌ এক্ষেত্রে গোটা বছরে ৩০০টি কাজের দিন ধরা হয়েছে ফলে প্রতিদিনের উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪৫০০০-৫০০০০ কোটি টাকা যা একদিন পুরোপুরি বন্ধ থাকলে ক্ষতি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ওই প্রতিবেদন জানাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে‌ ধরা হয়েছে দেশের অর্থনীতিতে ৮০ শতাংশ উৎপাদন হচ্ছে না এবং কুড়ি শতাংশ কাজ হচ্ছে। তাহলে এক্ষেত্রে প্রতিদিনের ক্ষতির অংক টা হচ্ছে গিয়ে ৩৫০০০-৪০০০০ কোটি টাকা।

আবার এই ২১দিনের লকডাউনকে ভাগ করা হচ্ছে ১৪ দিন আগামী অর্থবর্ষে বাকি সাত দিন এই অর্থবর্ষে।
আর মোট ৬.৩-৭.২ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষতি প্রকৃত অর্থে ১৮ টি কাজের দিন দুই অর্থবর্ষে সেই অনুপাতে ভাগ হবে। অর্থাৎ মোট ক্ষতি দুই-তৃতীয়াংশ যাবে আগামী অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে এবং বাকি এক-তৃতীয়াংশ যাবে চলতি অর্থবর্ষের‌ শেষ ত্রৈমাসিকে।

এটা ঠিক ‌ এই শাটডাউন মানে সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন থেমে যাওয়া নয়। কারণ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সামগ্রীর উৎপাদন ‌ এই অবস্থাতেও হবে। ‌ যেমন খাদ্য সামগ্রীর‌ উৎপাদন হবে বিশেষত কৃষি ক্ষেত্রে। পাশাপাশি এটাও সমস্যা গ্রাম থেকে সেইসব খাদ্য সামগ্রী শহরে আসার ক্ষেত্রে বাধা পাচ্ছে‌ এই সময়। ফলে শহরাঞ্চলে সেগুলি না আসার ফলে কৃষকদের আয় হচ্ছে না উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও। সে ক্ষেত্রে ওইসব খাদ্য সামগ্রী কতটা সংরক্ষণ করা যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংরক্ষণের অভাবে তা পচে গেলেও ক্ষতি।

তাছাড়া এই প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, এই সময় বেকারত্ব আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। ‌ কারণ অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ায় ক্ষুদ্র-মাঝারি ক্ষেত্রে কর্মী ছাঁটাই এবং সংস্থা বন্ধের আশঙ্কা দানা বাঁধছে।

সর্বোপরি ওই প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে এই লকডাউন যদি ২১ দিনে শেষ না হয়। কারণ এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না তা আরও বেড়ে ৩০ অথবা ৬০ দিন হবে কিনা । তাহলে সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হয়ে যাবে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প