নয়াদিল্লি : সত্যিই কী সুখবর আসতে চলেছে ? ভ্যাকসিন বাজারে আসা সময়ের অপেক্ষা হলেও, তা প্রথম ধাপে কতটা কার্যকরী হবে, সেটা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকছে। তবে এবার যে ইঙ্গিত মিলল, তাতে মনে হচ্ছে আসল সুখবর আসতে চলেছে। আর তা হল করোনার প্রকোপ কমার।

অবাক হলেও বা বিশ্বাস না হলেও বিষয়টা সেরকমই। বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট বলছে হয়ত সুদিন আসতে চলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী ৪০ শতাংশ করোনা আক্রান্তদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে কোনও উপসর্গ নেই, অর্থাৎ তাঁরা অ্যাসিম্পট্যোম্যাটিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রকম উপসর্গহীন করোনাই ধীরে ধীরে ছড়াবে। যার ফলে একসময় করোনার বিশেষ কোনও উপসর্গ আর থাকবে না। এতেই করোনার প্রকোপ কমার দিকে যাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বস্টন আশ্রয়শিবিরে ১৪৭ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে ৮৮ শতাংশের কোনও উপসর্গ মেলেনি। অথচ তারা করোনা আক্রান্ত। নর্থ ক্যারোলিনা, আরকানসাস, ওহিও এবং ভার্জিনিয়ায় ৩২৭৭ জন আক্রান্ত হলেও ৯৬ শতাংশ অ্যাসিম্পট্যোম্যাটিক। সাত মাস ধরে চলা এই মহামারীতে মারা গিয়েছেন ৭ লক্ষ মানুষ। তবে বেশিরভাগ মানুষকেই ছুঁতে পারেনি করোনা। কীকরে, এই প্রশ্নই তুলছেন বিজ্ঞানীরা।

তাঁরা বলছেন, কম বেশী সবাই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই অ্যাসিম্পট্যোম্যাটিক অর্থাৎ তাঁদের কোনও উপসর্গ নেই। গবেষকদের ধারণা এত উপসর্গ রয়েছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার, যে সঠিক ভাবে কোনও একটা নির্দিষ্ট ধারাকে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। ভ্যাকসিন তৈরির পথ যত সুগম হচ্ছে, মানুষের শরীরেও ততটাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

তাই বিজ্ঞানীদের ধারণা এই হারে যদি অ্যাসিম্পট্যোম্যাটিক রোগির সংখ্যা বাড়ে, তবে তা ভাল লক্ষ্মণ। কারণ এই ভাবে ধীরে ধীরে করোনা নিজের কার্যক্ষমতা হারাবে। কমে আসবে করোনার মারণ প্রকোপ। ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাস হামলা করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সংস্খা (হু) জানাচ্ছে রবিবার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ১ কোটি ২৭ লক্ষ ২০ হাজার ১৮৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

ওয়ার্ল্ডোমিটার জানাচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৯৮ লক্ষ ২ হাজারের বেশি। ৬৩ লক্ষ ৫২ হাজার ২৬৬ জন চিকিৎসাধীন। ৬৫ হাজারের বেশি আশঙ্কাজনক। এর হামলায় মোট ৭ লক্ষ ২৯ হাজার ৫৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১১ মার্চ করোনা ভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তবে ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসেবে তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের হামলা থেকে সুস্থ হয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২৬ লক্ষ ৩৮ হাজার ৪৭০ জন। ব্রাজিলে ২০ লক্ষ ৯৪ হাজার ২৯৩ জন। ভারতে ১৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৮০৪ জন।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।