শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : নিকাশি প্রকল্পের কাজে নেমে দক্ষিণ কলকাতার কুঁদঘাটে ম্যানহোল (Manhole) চার শ্রমিকের (Labourer) মৃত্যুর পর এই কাজে সরকারি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে শ্রমিক সুরক্ষায় প্রশাসনের কতটা নজর তা নিয়েও।

এদিকে চার শ্রমিকের মৃত্যু প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার (KMC) কোঅর্ডিনেটর তারেক সিংকে (Tarak Singh) প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “এটা কেইআইপি-র প্রকল্প (KEIP)। কলকাতা পুরসভার এই কাজে কিছুটা দায়িত্ব রয়েছে। তাই এই বিষয়ে আমি সেভাবে কিছু বলতে পারবো না। এই বিষয়ে কিছু জানার থাকলে কেইআইপি-র প্রজেক্ট ডিরেক্টরকে প্রশ্ন করুন।” কেইআইপি-র প্রজেক্ট ডিরেক্টর সৌম গাঙ্গুলিকে এই প্রসঙ্গে মোবাইলে ফোনে করে যোগাযোগ করা যায়নি।

এদিকে এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার ১১৪ নম্বর বোর্ডের যে সব মানুষেরা ঘটনাস্থলে ছিলেন তারা বলছেন, সব শ্রমিকের কোমরে দড়ি বেঁধে ম্যানহোল নামানো হয়েছিল কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ কেউ বলছেন চার শ্রমিকের কোমরে দড়ি বেঁধে ম্যানহোল নামানো হয়েছিল, কেউ বলছেন যারা ম্যানহোল নেমেছিলেন নিকাশির কাজ করতে তাদের কোমরে দড়ি ছিল না।

এই প্রসঙ্গে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সোমেন্দ্র মোহন ঘোষের (Somendra Mohon Ghosh) সঙ্গে কথা বললে তিনি সরাসরি এই চার শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য প্রশাসনকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, “কলকাতা পুরসভা এখন নিকাশি সহ বিভিন্ন কাজ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে করায়। তাই কলকাতা পুরসভার তরফে নিরাপত্তাজনিত কোনো সুরক্ষাবিধির নোটিশ নেই। নিয়ম হচ্ছে ম্যানহোল শ্রমিকদের নামালে তাদের মাস্ক, সেফটি বেল্ট, হেড লাইট সহ নামাতে হয়। সেটা হয়েছে বলে আমার মনে হচ্ছে না। এই ম্যানহোলের পাইপে কার্বন মনোঅক্সাইড তৈরী হয়ে যায়। বিষাক্ত গ্যাস থাকার সম্ভাবনা থাকে যায়। যেহেতু এই ম্যানহোল মাটির নিচে তাই সেখানে অক্সিজেন থাকে না। যাদের দিয়ে পুরসভা কাজ করাচ্ছে , তারা এই সুরক্ষা নিচ্ছে কিনা সেটা সেটা কলকাতা পুরসভার দেখা উচিত। আমার মনে হয় সেটা হয়নি। তাই চারজন শ্রমিকের এভাবে প্রাণ হারাতে হল।”

তবে ঘটনার দিনই কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম এই মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদনের জন্য গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি। সরকার মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের কথাও ঘোষণা করেছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.