নয়াদিল্লি: দেশে এই প্রথমবার সাংবাদিক সম্মেলনে একসঙ্গে বসলেন শীর্ষ আদালতের চার বিচারপতি৷ এই সাংবাদিক সম্মেলনে জাস্টিস চেলমেশ্বর জানান, কখনও কখনও এমনও হয় যে দেশে সুপ্রিম কোর্টের আবস্থারও পরিবর্তন হয়৷ পাশাপাশি, ঠিকমতো কাজ এখানে না হওয়ার ক্ষোভ ঝরে পড়েছে তাঁর কথায়৷

পড়ুন: মহাকাশে রওনা দিল ইসরোর ১০০তম উপগ্রহ

এরকম চলতে থাকলে পরিস্থিতি যে আরও কঠিন সময়ের দিকে এগিয়ে চলেছে সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি৷ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এই ইস্যুতে কথা বললেও, তিনি কোনও কথাই শোনেননি বলে অভিযোগ তাঁর৷

বিচারপতিরা জানান, তাদের ওপর অভিযোগের আঙুল উঠুক তা তাঁরা চান না৷ এই প্রথমবার সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারপতিরা সাংবাদিক সম্মেলন করলেন৷ এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাস্টিস চেলমেশ্বর, জাস্টিস রঞ্জন গগৈ, জাস্টিস মদন লোকুর এবং জাস্টিস কুরিয়ন জোসেফ৷

এই প্রথম এমন কোনও ঘটনা ঘটল৷ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধাচরণ করলেন ৪ বিচারপতি৷ সংবাদমাধ্যমকে তাঁরা জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ আদালতের পরিচালনা সঠিকভাবে হচ্ছে না৷

পড়ুন:  ‘শৌচালয়ে গেরুয়া রং করে ধর্মের অপমান করেছে বিজেপি’

সম্প্রতি একটি সাংবাদিক বৈঠক করেছেন বিচারপতি জে চেলামেশ্বর৷ প্রধান বিচারপতির পর সর্বোচ্চ আদালতের তিনিই সবচেয়ে সিনিয়র৷ তিনি জানিয়েছেন, “আমদের উপর প্রতিষ্ঠান এবং জাতির একটি দায়িত্ব রয়েছে৷ প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার জন্য প্রধান বিচারপতিকে পদক্ষেপ গ্রহণ করাতে আমরা ব্যর্থ৷” তিনি এও জানিয়েছেন, জাতির ইতিহাসে এটি একটি “অসাধারণ” ঘটনা৷ “এর মধ্যে কোনও আনন্দ নেই৷ আমরা এমন করতে বাধ্য হয়েছি৷ সুপ্রিম কোর্টের পরিচালন সমিতি ঠিক নেই৷” বলেছেন চেলামেশ্বর৷

চেলামেশ্বরের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বিচারপতি রাজন গগৈ, বিচারপতি মদন লোকুর ও বিচারপতি কুরিয়েন জোসফ৷ এঁরা ৪ জন আগেই মুখ্য বিচারপতিকে এনিয়ে লিখেছিলেন৷ তবে সংবাদমাধ্যমের সামনে সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতির এমন ইমেজ তুলে ধরা আগে কখনও হয়নি৷

গত ডিসেম্বরে বিচারপতি চেলামেশ্বরের সঙ্গে একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির তর্কবিতর্ক হয়৷ প্রধান বিচারপতি মামলাটি পিছিয়ে দেন৷ ওই ৪ বিচারপতিই একমত ছিলেন যে তিনিই “মাস্টার অফ রোস্টার”৷ তাঁর হাতেই একমাত্র ক্ষমতা রয়েছে৷ তিনিই সিদ্ধান্ত নেন কোন মামলা কার কাছে যাবে৷ প্রধান বিচাপরতির বিরুদ্ধে ওই ৪ বিচারপতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন৷ এ প্রসঙ্গে অনেকগুলি মামলার কথা উঠছে৷ এর মধ্যে প্রতিটিই বিচার বিভাগের মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ৷ লখনউয়ে একটি মেডিকেল কলেজ কর্তৃক ঘুষ দিতে সরকারের ব্ল্যাকলিস্ট থেকে নিজের নাম তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল৷ সেই মামলার কথা উঠছে৷ এছাড়া সোরাবুদ্দিন শেখের মিথ্যা এনকাউন্টার ও সেই মামলার বিচারপতি বি এইচ লোয়ার কথাও এ প্রসঙ্গে উঠছে৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ