অমরাবতী: সময়টা একদমই ভালো যাচ্ছে না চন্দ্রবাবু নাইডুর৷ রাজ্য হাতছাড়া হয়েছে৷ লোকসভা ভোটে চরম বিপর্যয়৷ এবার জল্পনা ছড়িয়েছে, রাজ্যসভার কয়েকজন সাংসদও তাঁকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন৷ জল্পনা সত্যি হলে সাংসদদের তেলেগু দেশম পার্টি ছাড়া সময়ের অপেক্ষা৷

এই খবরে উল্লসিত বিজেপি শিবির৷ তাদের খুশির কারণ যথেষ্ট৷ কেননা রাজধানীর অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে ওই সাংসদেরা যাচ্ছেন বিজেপিতে৷ রাজ্যসভায় টিডিপি’র ছয় সাংসদ আছে৷ তাঁরা হলেন, ওয়াই এস চৌধরী, কে আর কুমার, সি এম রমেশ, জি মোহন, থোটা সীথারামা লক্ষ্মী এবং টি জি ভেঙ্কটেশ৷ এদের মধ্যে চারজন সম্ভবত যেতে চলেছেন গেরুয়া শিবিরে৷ সূত্রের খবর, খুব তাড়াতাড়ি দলের সভাপতির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠাতে পারেন তাঁরা৷

গতবারের থেকে লোকসভায় বিজেপির এবার অনেক আসন বেড়েছে৷ আগের থেকে তারা অনেক বেশি শক্তিশালী৷ কিন্তু রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে এবারও বহু বিল পাশ করাতে বিরোধীদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে মোদী-শাহকে৷ তাই বিরোধী শিবির থেকে যত বেশি রাজ্যসভার সাংসদ বিজেপিতে আসতে ততই মোদী-শাহের লাভ৷ রাজ্যসভায় এই মুহূর্তে বিজেপির সাংসদ সংখ্যা ৭১ জন৷ এনডিএ’র সাংসদদের জুড়লে তা হবে ৯৯৷ টিডিপি থেকে যে চার সাংসদ বিজেপিতে আসছেন তাদের যোগ করলে এনডিএ’র সম্মিলিত আসন সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১০৩৷

এদিকে রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠাতে পেতে প্রয়োজন ১২৪টি আসন৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, খুব তাড়াতাড়ি এই সংখ্যাটা বেড়ে যাবে৷ ২০২০ সালে উত্তরপ্রদেশ থেকে ১০টি আসন খালি হবে৷ গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এই রাজ্যে দুর্দান্ত ফল করেছে৷ ফলে উত্তরপ্রদেশ থেকে ন’টি আসনে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে৷ এছাড়া চলতি বছরের শেষে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ভোট আছে৷ এই তিন রাজ্যে বিজেপির ফল ভালো হলে ২০২০ সালে রাজ্যসভায় আরও প্রতিনিধি পাঠাতে পারবে গেরুয়া শিবির৷ হিসেব অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি আসনে পৌঁছে যেতে পারবে বিজেপি৷ এর এনডিএ’র শরিক দলগুলিতে ধরলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পার হয়েই যাবে৷ ফলে সংসদের দুই কক্ষে বিল পাশ করাতে কোনও অসুবিধা হবে না বিজেপির৷ শরিক দলগুলি বেগ দিলে অন্য কথা৷