নিউ ইয়র্ক: সন্ত্রাসে মদত নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ফিনান্সিয়াল টাস্ক ফোর্স এই দেশকে কোন তালিকায় রাখবে, তা নিয়ে জল্পনা ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এবার সেই FATF-এর তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হল পাকিস্তানকে।

২০২০-র ফে্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানকে। পাকিস্তানকে বলা হয়েছে, ‘২০২০-র ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরো অ্যাকশন প্ল্যান সম্পূর্ণ করতে হবে। তার মধ্যে উন্নয়ন মূলক পদক্ষেপ নিয়ে দেখতে হবে পাকিস্তানকে। আর তা না করলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যদিও পাকিস্তানকে ব্ল্যাক লিস্টে ফেলা হবে নাকি গ্রে লিস্টেই রাখা হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপাতত গ্রে লিস্টে আছে পাকিস্তান। অর্থাৎ যেসব দেশ আর্থিক দুর্ণীতি সামলাতে সক্ষম নয়, তাদের এই ধরনের তালিকায় রাখা হয়। ২৭ টি ক্ষেত্রে মাত্র ৫ টাতে উতরোতে পেরেছে পাকিস্তান। পাশ করেনি ২২টি-তেই।

১৯৮৯ সালে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নজর রাখার জন্যে এই সংস্থা এফএটিএফ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে অর্থ জোগানো এবং সন্ত্রাস সংক্রান্ত অন্যান্য আশঙ্কার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল।

গত বছরের জুনে প্যারিসের এই নজরদারি সংস্থাটি পাকিস্তানকে গ্রে তালিকা অর্থাৎ ধূসর তালিকায় রাখে এবং ২০১৯ সালের অক্টোবরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্যে ওই দেশকে সময় দেয়। সেইসঙ্গে এই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয় যে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করতে পারলে তারও ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৮ তারিখ শেষ হওয়া একটি বৈঠকে FATF একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, পাকিস্তান, ইরান সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলি চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। এমতঅবস্থায় পাকিস্তানকে যদি কালো তালিকাভুক্ত করা হয় তাহলে বিশ্ব অর্থনীতির বাজারে বড়সড় ধাক্কা খাবে ইমরানের দেশ।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের শুরুতে ফ্যাটের প্রেসিডেন্ট মার্শাল বিলিংগস্লিয়া বলেছিলেন, সন্ত্রাসদমন সহ অন্যান্য বিষয়ে পাকিস্তান ফ্যাটের নিয়ম মেনে চলছেনা। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াতে চাইছেনা কোনও দেশই। এমত অবস্থায় আজ যদি পাকিস্তানকে গ্রে লিস্ট থেকে বাদ দিয়ে কালো তালিকায় ফেলা হয় তাহলে অর্থনীতিতে ভরাডুবির মুখে পড়বে পাকিস্তান। এমনটাই মনে করা হচ্ছে।