নয়াদিল্লি: শেষ ২৪ ঘণ্টায় একধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে ভারতের আক্রান্তের সংখ্যা। বুধবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে হিসেব দিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। একদিনে এত বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ভারতে এই প্রথমবার।

কেন্দ্রের হিসেব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬৩৭। মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। সুস্থ হয়ে গিয়েছেন ১৩২ জন।

মঙ্গলবার থেকে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে শুরু করেছে। আর তার অন্যতম কারণ হিসেবে তবলিগি জামাতের জমায়েতের কথা উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

এই প্রথম অসম ও ঝাড়খন্ডে করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ২১ দিনের লকডাউন চলছে। বারবার কেন্দ্র-রাজ্য সরকারগুলির তরফে সোশ্যাল ডিসটেন্সসিংয়ের শর্ত মেনে চলতে বলা হচ্ছে নাগরিকদের। এরপরেও আদৌ কি সচেতন হচ্ছি আমরা। দিল্লির নিজামুদ্দিন এর ঘটনায় সেই প্রশ্ন আবারও উঠেছে। একইসঙ্গে দেশে বেড়েই চলেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও।

বুধবার সকাল পর্যন্ত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দশজন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশে ৪০, বিহারে ১৬, চণ্ডীগড়ে ১৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারণ করোনা থাবা বসিয়েছে লাদাখে। বুধবার সকাল পর্যন্ত লাদাখের ১৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

আক্রান্তের সংখ্যা বেশি রাজধানী দিল্লিতে। দিল্লিতে এখনো পর্যন্ত ৯৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও গোয়ায় ৫, গুজরাটে ৭৪, হরিয়ানায় ৪৩, হিমাচলপ্রদেশে ৩ জম্মু-কাশ্মীরে ৫৫ জন কোভিড১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে, রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৬। মঙ্গলবারই ওই ব্যক্তির করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। গত কয়েকদিন ধরেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।

৫৭ বছর বয়সী ও‌ই ব্যক্তির ভিন দেশে বা ভিনরাজ্যে যাওয়ার কোনও ইতিহাস নেই। তিনি রথতলা এলাকায় একটি রোল-চাউমিনের দোকান চালাতেন বলে জানা গিয়েছে। কীভাবে তিনি আক্রান্ত হলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও ক্রেতার কাছ থেকে কোনওভাবে সংক্রমণ ঘটেছে নাকি কোনও হাসপাতাল থেকে এই মারণ রোগের সংক্রমণ ঘটেছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

যদিও খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় ওই ব্যক্তির আত্মীয় সম্প্রতি মুম্বই থেকে ফিরেছিলেন। বাকিদেরও খোঁজ খবর নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

ওই ব্যাক্তি কিডনি জনিত একাধিক শারীরিক সমস্যা ছিল। ডায়ালিসিস করাতে যেতেন জেনিথে। ডায়ালিসিস করাতে গিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। হাসপাতাল থেকেও এই রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।