নয়াদিল্লি: কাজের খোঁজে দেশের বাইরে পাড়ি দেওয়া সাধারণ ব্যাপার। সেই মতই মধ্য-প্রাচ্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে কাজ করতে যান বহু ভারতীয়। তৈল শোধনাগার থেকে রাস্তা নির্মাণ নানা কাজে ওই অঞ্চলে শ্রমিক হিসাবে প্রথম সারিতে উঠে আসে ভারতীয়দের নাম। কিন্তু, এই ভারতীয় কর্মীদের নিয়ে একটি রিপোর্ট সামনে আসতেই বেড়েছে উদ্বেগ। তথ্য অনুসারে উপসাগরীয় অঞ্চলে গিয়ে গত ৫ বছরে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ভারতীয়ের।

বৃহস্পতিবার লোকসভায় পরিসংখ্যান দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে বিদেশ মন্ত্রক। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওমান-সৌদি আরব-সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-কাতার-কুয়েত-বাহারাইনের মতো উপসাগরীয় অঞ্চলের মোট ছ’টি দেশে কাজের জন্য যাওয়া ভারতীয়দের মধ্যে প্রতি দিন গড়ে প্রায় ১৫ জন করে মারা যান।

লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন কংগ্রেস সাংসদ এন উত্তমকুমার রেড্ডির প্রশ্নের জবাবে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলীধরন গত কাল জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয়দের মধ্যে ২০১৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত মারা গিয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৮৮ জন । এর মধ্যেই চলতি বছরে মারা গিয়েছেন ৪ হাজার ৮২৩ জন। তিনি আরও জানিয়েছেন, বেশির ভাগ মৃত্যুর ঘটনাই ঘটেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। হাজার হাজার ভারতীয়ের এই মৃত্যুর কারণ আরও উদ্বেগজনক। এই মৃত্যু মিছিলের জন্য দায়ি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি কারণকে। বেতন না মেলা, কাজের অত্যধিক চাপ, দেনার দায়, কর্মস্থলে প্রতিকূল পরিস্থিতি— সব মিলিয়ে মানসিক চাপে জর্জরিত হয়েই এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ‘গাল্ফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’।

বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে, মৃত ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে তেলেঙ্গনার বাসিন্দা । গত পাঁচ বছরে অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশ এবং বর্তমান তেলঙ্গানার প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ মারা গিয়েছেন। এই তথ্যকে নির্ভুল বলে স্বীকার করেছে তেলেঙ্গনা সরকারও। রাজ্যের অনাবাসী ভারতীয় বিষয়ক শাখার এক আধিকারিক ই চিত্তিবাবু বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের রাজ্যের প্রায় এক হাজার দু’শ মানুষ মারা গিয়েছেন।’

গাল্ফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পি বসন্ত রেড্ডি বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ কর্মীই ধারদেনা বা মানসিক চাপের কারণে চরম পথ হিসাবে আত্মহত্যাকে বেছে নিচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে অনুপযুক্ত পরিবেশের ফলেও তাঁদের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও মারাত্মক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, ওয়ার্ক ভিসা দেওয়ার নামে ভুয়ো এজেন্টের খপ্পরে পড়ে সমস্ত টাকাপয়সা খুইয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন বহু ভারতীয়।’