সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : হুইশপার ক্যাম্পেনিং। যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে অমিত শাহ যেই আসছেন ভোটের তাগিদে সেই বাংলায় এসে বলে যাচ্ছেন তাঁরা দারুন করে দুর্গাপুজো করতে দেবেন। বলছেন রাজ্যে দুর্গাপুজো করতে দেওয়া হয় না। আজ এগরায় যে সভা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সেখানেও তাঁর সেই এক কথা।

তিনি বলেন , ‘বাংলায় দুর্গাপুজো করার জন্য আদালতের অনুমতি নিতে হয়। একবার পদ্মের সরকার তৈরি করে দিন। বাংলার মাটিতে দুর্গাপুজো এবং সরস্বতী পুজো কেউ রুখতে পারবে না’। ঘটনা হল , বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। বিগত বছর দশেকে এই পুজোর রমরমা আরও বেড়েছে। থিমের মাধ্যমে নজর কাড়ার লক্ষ্য প্রত্যেকটি ক্লাবেরই থাকে। শহর থেকে গ্রাম হয়ে প্রত্যেকটি জেলায় একই চিত্র ধরা পড়ে। আর বাঙালি এই পুজোর আনন্দকে পাঁচ দিন থেকে বাড়িয়ে কখন যে আট দিনের করে নিয়েছে তা বোঝার যায়নি। পুজোকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের সারা বছরের রুজিরোজগার দাঁড়িয়ে থাকে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে কলকাতায় তিন হাজার এবং এবার সারা পশ্চিমবঙ্গে মোট ৩৪ হাজার পূজো হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসেবে, রাজ্যে পূজার সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি, যার মধ্যে রয়েছে হাজারের উপর বনেদি বাড়ির পূজো। অমিত শাহ বলছেন ‘দুর্গাপুজো করার জন্য আদালতের অনুমতি নিতে হয়’। তিনি অবশ্যই গত বছর ভরপুর করোনার সময়ের কথা টেনে বলছেন তা স্পষ্ট। কারণ দুর্গা পুজো করতে দেওয়া উচিৎ কি উচিৎ নয় তা নিয়ে বিস্তর তরজা হয়। রাজ্য সরকার পুজোর অনুমতি দিয়েছিল, হাইকোর্টে বিকাশ ভট্টাচার্য জনস্বার্থ মামলা করেন। সেই অনুযায়ী কোর্ট অনেকগুলি বিধি করে দেয়। সেই মতো ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী সকাল পর্যন্ত ভিড়ে লাগাম দেওয়া গেলেও। ওইদিন সন্ধ্যা থেকে আর ভিড়ে লাগাম দেওয়া যায়নি। মানুষ ভয়ঙ্কভাবে রাস্তায় ঠাকুর দেখতে নেমে পড়ে। প্যান্ডেলে ঢুকতে না পারলেও সংলগ্ন রাস্তা ও মাঠে ভয়ঙ্কর ভিড় জমায়। তবে শুধুমাত্র বন্ধ ছিল এবারের সরকারের করা কারনিভ্যাল। বিসর্জন হয়েছিল আঁটোসাঁটো নিয়মের মধ্যে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন , ‘রাজ্য সরকার তো পুজো করতে বারন করেনি , কোর্ট যা বলেছিল সেই বিধি মানিয়ে পুজো হয়েছিল। প্যান্ডেমিকের সময় যা স্বাভাবিক।’ অমিত শাহরা এই তত্ব কোথা থেকে বারবার এসে হাজির করছেন তা নিয়ে সন্দিহান তাঁরা। বাকি রইল সরস্বতী পুজো। বছর তিনেক আগে একটি স্কুলে সরস্বতী পুজো নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। ঘটনা বাঁক নিয়েছিল দুই সম্প্রদায়ের দ্বন্দ্বের মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন , ‘ঘটনার সংখ্যা ওই একবার। অবশ্যই যা হয়েছিল তা নিন্দনীয়। গত চার বছর ধরে সেই ঘটনা টেনে কি এখনও বলা যায় যে স্কুল, কলেজ, পাড়া, ক্লাব, বাড়িতে বাগদেবীর আরাধনা হয় না!’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.