নয়াদিল্লিঃ দেশ জুড়ে চলছে করোনার ভয়াবহতা। একাধিক রাজ্যের তরফে পুলিশ-প্রশাসন মানুষকে সতর্ক থাকতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করছে। কখনও করা হচ্ছে সম্পূর্ণ লকডাউন, কখনও কনটেনমেন্ট জোন ঘিরে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে বারবার করে সাধারণকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কিন্তু কে কার কথা শোনে! প্রত্যেকদিন কার্যত হাজার হাজার মানুষ মারণ করোনাতে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাতেও ভয় নেই। চলছে আড্ডা, মাস্ক না পড়ে ঘোরার মতো ঘটনাও সামনে আসছে। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে গেল দিল্লির ঘটনা। প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য করে নাইট ক্লাবে রাতভর চলল পার্টি। আর তা সামনে আসতেই গ্রেফতার করা হয়েছে ৩১ জনকে।

দিল্লিতে কিছু কিছু জায়গাতে চলছে লকডাউন। মানা হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা। সমস্ত কিছু উপেক্ষা করে কীভাবে নাইট ক্লাবে এভাবে পার্টি চলল তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। জানা গিয়েছে ওই নাইট ক্লাবটির নাম প্লাগ। সংক্রমণের কারণে যেখানে প্রশাসনের তরফে কার্যত এখন সকল পাব, নাইট ক্লাব বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে সেখানে তারা কিভাবে এই নির্দেশ অমান্য করতে পারে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

পাশপাশি জানা গিয়েছে ওই নাইট ক্লাবে রাতধরে পার্টি চলার পাশাপাশি অবাধে হুক্কা এবং মদ্য পান চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন যে, ক্লাব টি মহামারীর সময়ে খোলা হয়েছিল একটি সাধারণ রেস্টুরেন্ট হিসেবে।

সেখানে যে নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নাইট ক্লাব চলছিল তা বুঝতেই পারেনি অনেকে। কিন্তু রাতে ওই ক্লাবের সামনে একাধিক গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অনেকের সন্দেহ হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশ প্রশাসনকে। ওই রেস্টুরেন্টের ভিতরে ঢুকেই কার্যত চক্ষু চড়ক পুলিশের। অবাধে চলছে মদ্যপান এবং নাচানাচি। ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় ৩১জনকে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে, ওই ক্লাবে মানা হচ্ছিল না কোনও সোশ্যাল ডিসটেন্স। সবাই মত্ত অবস্থায় ছিল। পাশপাশি সেখান থেকে বেশ কিছু মদের বোতল উদ্ধার করা হয়, এমনটাই জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে। ইতিমধ্যে সিল করে দেওয়া হয়েছে ক্লাবটি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাবে থাকা সবাইকে করোনা টেস্ট করানো হবে। যাতে এই ক্লাব থেকে কোনও সংক্রমণ না ঘটে সেজন্যেই এই সিদ্ধান্ত পুলিশের। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই নাইট ক্লাবের মালিক এবং তার ভাইও ওই পার্টিতে ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

লকডাউন, করোনার কারণে এখনও পাব, নাইট ক্লাবগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে কীভাবে তাঁরা এই ক্লাব খুলল তা নিয়ে ইতিমধ্যে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ক্লাবে থাকা বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

তাঁরা জানতে পেরেছেন যে, ওই ক্লাবের তরফে সোশ্যাল মিডিয়া মারফত বেশ কয়েকটি মেসেজ আসে। আর তারপরেই তারা ওই পার্টিতে যোগ দিয়েছিল। কি মেসেজ পাঠানো হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ক্লাবের মালিককে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।