আদালত সংবাদদাতা, কলকাতা: বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (বিসিআই) আতসকাঁচের তলায় এবার খোদ আইনজীবীরা। এক আধজন নয়, ইতিমধ্যেই বিসিআইয়ের নজরে এসেছে ১০ হাজার আইনজীবী৷ তাঁদের চিহ্নিতও করা হয়েছে৷ নজরে রয়েছেন আরও ২০ হাজার আইনজীবী৷ তাঁদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছে বিসিআই৷

বিসিআই সূত্রের খবর, রাজ্যে মোট আইনজীবীর প্রায় ৪০ শতাংশের ওকালতি করার বৈধ লাইসেন্সই নেই! যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার চাকুরিজীবী! ভুয়ো শংসাপত্র নিয়ে দীর্ঘদিন আদালতে ওকালতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন! আবার অনেকে ভিনরাজ্য থেকে আইন পাশ করে এরাজ্যে ওকালতি করছেন।

রাজ্য বার কাউন্সিলের নির্বাচনকে ঘিরেই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য৷ আজ, মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার দু’দিন ধরে চলবে বার কাউন্সিলের নির্বাচন৷ ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়েই চক্ষুচড়ক গাছ কাউন্সিলের সদস্যদের৷ কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি উত্তম মজুমদার বলেন, ‘‘ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে প্রায় ৩০ হাজার আইনজীবীর ওকালতি করার বৈধ কাগজপত্রই নেই! ইতিমধ্যে ১০ হাজার জনকে চিহ্নিতও করা হয়েছে৷ বাকি ২০ হাজার জনও আমাদের নজরে রয়েছে৷’’

বিসিআই সূত্রের খবর: রাজ্য বার কাউন্সিলে প্রায় ৫৬ হাজার সদস্য থাকলেও মাত্র ২৬ হাজার আইনজীবী এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন৷ তার মধ্যে হাইকোর্টের আইনজীবীর সংখ্যা ৮ হাজার৷ প্রার্থীর সংখ্যা ৯১। ২৭-২৮ মার্চ দু’ সকাল ১০ টা থেক বিকেল ৪ টে পর্যন্ত নির্বাচন হবে। বিজেপির আইনজীবী সেলের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল অবশ্য বলেন, ‘‘হাইকোর্টে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে না। বিচারপতি নিয়োগের সুপারিশেপদ্ধতিগত ভুলের কারণেই নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছে।’’

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুয়াযী, ৩১ মার্চের মধ্যে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার নির্বাচন সম্পূর্ণ করতে হবে। বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দেশের প্রত্যেকটা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি কর বলা হয়- যাঁরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং যাঁরা ভোট দেবেন প্রত্যেককে মাধ্যমিক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতি বছরের বৈধ নথি প্রতি রাজ্যের যেবার কাউন্সিলের দফতরে জমা দিতে হবে। ফলে নয়া ভোটার লিস্ট তৈরি করতে গিয়ে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ওয়েস্ট বেঙ্গল বার কাউন্সিলের প্রতি ৫ বছর অন্তরে নির্বাচন হয়। নির্বাচনে যাঁরা নির্বাচিত হন তাঁদের মধ্যে নির্বাচিত বেশ কিছু প্রতিনিধিরা বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হন। বিসিআই সূত্রের খবর: ভোটার তালিকায় অসংখ্য ত্রুটি থাকায় ২০১১ সালের পর মাঝের সাত বছরে কোনও নির্বাচন হয়নি বার কাউন্সিলের। ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো আইনজীবীদের নাম যাতে বাদ দেওয়া যায় সেক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে বলে বিসিআইয়ের দাবি। আর ত্রুটি মুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়েই বিসিআইয়ের ছাকনিতে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য৷